সর্বশেষ
কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে দেউন্দি টি কোম্পানি ॥ শ্রমিকদের কর্মবিরতি
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চুনারুঘাটের লালচাঁদ চা বাগানের মন্দিরের সামনে এ বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। লাল সাঁওতালের সভাপতিত্বে এতে লালচাঁদ, দেউন্দি, গিলানী ও নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকেরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল, নোয়াপাড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কমেট নায়েক, ইউপি সদস্য দুলাল ঘোষ, কার্তিক বাকতি, লক্ষ্মীকান্ত রায় ও দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার দাস। শ্রমিকেরা জানান, সাপ্তাহিক মজুরি না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে ফিরতে অনাগ্রহী তাঁরা।
দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে হবিগঞ্জের তিনটি ও মৌলভীবাজারের একটি চা বাগান রয়েছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২২ সাল থেকে আর্থিক সংকটের কারণে বাগানগুলো পরিচালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও চায়ের প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
লালচান্দ চা বাগানের শ্রমিক নেতা বিজন বাউরী ও পঞ্চায়েত নেতা খেলু নায়েক বলেন, সাপ্তাহিক মজুরি দিয়েই শ্রমিকদের সংসার চলে। মজুরি না পাওয়ায় খাবার ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কমেট নায়েক জানান, মজুরি পরিশোধের বিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেনি। মজুরি না পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলবে।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, মজুরির দাবির সমাধান না হওয়ায় তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের এক দফা দাবি, বর্তমান মালিকপক্ষকে তারা আর চান না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।
শ্রমিক নেতারা আরও জানান, আগামী রোববার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করবেন তারা। পরে নিজেদের দাবি তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হবে। শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে।
লালচান্দ চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী বলেন, কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় অর্থসংকটের কারণে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও চায়ের দাম সে অনুপাতে না বাড়ায় বাগান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রকাশের আগে শ্রমিকদের কর্মবিরতির সর্বশেষ অবস্থা ও কৃষি ব্যাংকের বক্তব্য যুক্ত করলে সংবাদটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।
ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু জাতীয় ফার্নিচার মেলা
স্টাফ রিপোর্টার: দেশীয় আসবাবশিল্পের আধুনিক নকশা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা। বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির (বিএফএসএমএস) আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলায় অংশ নিয়েছে দেশের ৪৪টি শীর্ষস্থানীয় ফার্নিচার কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানগুলো ৩২৩টি স্টলে তাদের বিভিন্ন ধরনের আসবাব ও আধুনিক ডিজাইনের পণ্য প্রদর্শন করছে।
গতকাল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ মেলা আইসিসিবির পুষ্পগুচ্ছ, রাজদর্শন ও নবরাত্রি হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশে কোনো ফি লাগবে না। পাশাপাশি মেলা উপলক্ষে ক্রেতারা বিভিন্ন আসবাবের ওপর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ড. কে এম আকতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএমএসের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, দেশের আসবাবশিল্প অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে এ খাতে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটি শিল্পটির ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের মতো প্রচলিত রপ্তানি খাতের বাইরে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় ফার্নিচার ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান তৈরি হওয়া দেশের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার আসবাবের বাজার গড়ে উঠেছে, যার পুরোটাই এখন দেশীয় শিল্পের দখলে।
বিএফএসএমএসের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান বলেন, দেশীয় আসবাবশিল্পের অগ্রগতি ধরে রাখতে পণ্যের মান উন্নয়ন, নকশা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন এবং দক্ষ জনবলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএফএসএমএসের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ আবদুল আউয়াল বলেন, জাতীয় ফার্নিচার মেলা দেশীয় উৎপাদকদের নতুন নকশা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবন ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। একই স্থানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর অংশগ্রহণের ফলে ক্রেতারা বিভিন্ন পণ্যের নকশা ও বৈশিষ্ট্য তুলনা করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আসবাব বেছে নিতে পারবেন।
মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আখতার, হাতিল, ব্রাদার্স, নাদিয়া, আয়ত, ওমেগা, জেএমজি, নাভানা, অ্যাথেনাস, পারটেক্স, রিগাল ও লেগাসিসহ বিভিন্ন পরিচিত ব্র্যান্ড। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।
মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার (ডিটিসি)।
মাদক সেবনের অভিযোগে সাজা, আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি: অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অথচ রাজধানীর ভাটারা থানার পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানের পর ৮৫ জনকে মাদক গ্রহণের অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নাগরিক অধিকার এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাদক গ্রহণের অভিযোগ যাচাইয়ে কোনো চিকিৎসাগত বা রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িটি পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বলে জানা গেছে। সেখানে উপস্থিত এক বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর বাবা একটি জাতীয় দৈনিককে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে একটি সংগীতানুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর কাজ পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকেও মাদক গ্রহণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি শুধু অভিযানের যৌক্তিকতা নয়, বরং অভিযোগ নির্ধারণ, অপরাধ প্রমাণ এবং শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক সুরক্ষা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি করা যাবে না।
এ ছাড়া সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে কাউকে বঞ্চিত না করার নিশ্চয়তা রয়েছে। ৩৩ অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তার ও আটক-সংক্রান্ত সুরক্ষার বিধান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ৩৫ অনুচ্ছেদে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার ও শাস্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে কোনো স্থানে উপস্থিত থাকা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না। প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা যাচাই করা জরুরি।
৮৫ জনকে একই অভিযানে আটক করে মাদক গ্রহণের অভিযোগে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯-এর আওতায় নির্ধারিত শর্তে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। তবে এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও আইনের নির্ধারিত সীমা, বিচারিক পদ্ধতি এবং অপরাধের উপাদান পূরণ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিভিন্ন ধরনের মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য পৃথক বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তি মাদক সেবন করেছেন—এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ঘটনার ধরন, প্রযোজ্য আইনের বিধান এবং উপলব্ধ সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসাগত পরীক্ষা, রাসায়নিক বিশ্লেষণ কিংবা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সব ধরনের মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত বা রাসায়নিক পরীক্ষা আইনত বাধ্যতামূলক কি না, তা সংশ্লিষ্ট অপরাধের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইনের বিধান দেখে নির্ধারণ করতে হবে। একইভাবে, পরীক্ষা করা হয়নি বলেই কোনো ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দণ্ডাদেশ অবৈধ হয়ে যায়—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। মূল প্রশ্ন হলো, অভিযোগ প্রমাণে আইনসম্মত ও পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।
তাই আলোচিত ঘটনায় কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল, কোন আইনি বিধানে সাজা দেওয়া হয়েছে, কী সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তার এখতিয়ারের মধ্যে থেকে বিচার করেছেন কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
কোনো বাড়ি, অনুষ্ঠান কিংবা জমায়েতে উপস্থিত থাকলেই একজন ব্যক্তি সেখানে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়ে যান না। কোনো স্থানে মাদক সেবনের ঘটনা ঘটে থাকলেও প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করেছেন বা অপরাধে সহযোগিতা করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ব্যক্তিভিত্তিক তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে, একই ঘটনায় বহু ব্যক্তিকে একসঙ্গে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি, সংশ্লিষ্টতার ধরন এবং প্রমাণের পর্যাপ্ততা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
এ ঘটনায় বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে সেখানে সংগীত পরিবেশনের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। বক্তব্যটি সত্য হলে তাঁর উপস্থিতির কারণ, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের প্রকৃতি এবং মাদক গ্রহণের অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ ছিল, তা যাচাই করা প্রয়োজন। পেশাগত কাজে কোনো স্থানে যাতায়াতের কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
অভিযান পরিচালিত বাড়িটি একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বলে সংবাদমাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও ঘটনাটির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু বাড়ির মালিকানার তথ্য থেকে কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বরং অভিযানের পরিকল্পনা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা, আটক করার কারণ এবং পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব অপরাধ প্রতিরোধ করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে অভিযান পরিচালনার সময় নাগরিকের অধিকার রক্ষা, ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্বের অংশ।
যদি তদন্তে দেখা যায়, যথাযথ যাচাই ছাড়াই কাউকে আটক করা হয়েছে কিংবা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া সাজা দেওয়া হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। বিপরীতে, অভিযোগের পক্ষে আইনসম্মত প্রমাণ থাকলে সেটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করতে হবে।
ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় কয়েকটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, নিরপেক্ষ তদন্ত: ৮৫ জনকে আটক, অভিযোগ গঠন এবং সাজা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনার জন্য উপযুক্ত স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারিক তদন্তের উদ্যোগও বিবেচনা করা যেতে পারে। তদন্তে অভিযানের নথি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার: মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে অপরাধের ধরন অনুযায়ী আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ এবং মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত বা পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কেবল অনুমান, সন্দেহ কিংবা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।
তৃতীয়ত, দণ্ডাদেশ পর্যালোচনা ও আইনি প্রতিকার: কোনো দণ্ডাদেশে আইনগত ত্রুটি, এখতিয়ারসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা প্রমাণের গুরুতর ঘাটতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দণ্ডাদেশের ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে উপযুক্ত আদালতে আপিল, পর্যালোচনা বা অন্য আইনসম্মত প্রতিকারের পথ অনুসরণ করা যেতে পারে।
চতুর্থত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা: অভিযানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করতে হবে। কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পঞ্চমত, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ: ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, আটক ব্যক্তিদের অধিকার, অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ এবং তাৎক্ষণিক বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি জোরদার করা দরকার। একই সঙ্গে আটক ও দণ্ডাদেশ-সংক্রান্ত তথ্যের যথাযথ নথিবদ্ধকরণ এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রয়োগের লক্ষ্য শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। অপরাধের অভিযোগ উঠলে তার যথাযথ তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং আইনসম্মত শাস্তি নিশ্চিত করতে হয়। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অযথা আটক, হয়রানি বা শাস্তির শিকার না হন, সে বিষয়েও রাষ্ট্রকে সতর্ক থাকতে হয়।
রাজধানীর ভাটারার আলোচিত ঘটনাটি তাই কেবল একটি অভিযান কিংবা কয়েকজন ব্যক্তির সাজা পাওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং বিচারব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থার প্রশ্ন জড়িত।
তবে প্রকাশিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে কোনো আইন লঙ্ঘিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, আদালতের আদেশ এবং প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, আইনগত ত্রুটি থাকলে তার প্রতিকার এবং দায়িত্বে অবহেলা বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
এয়ারসাইডে যানবাহন নিয়ন্ত্রণহীন, ঝুঁকিতে উড়োজাহাজের নিরাপদ চলাচল
বিশেষ প্রতিনিধি: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোনে চলাচলকারী শত শত যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এসব যানবাহনে বাধ্যতামূলক ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপন না করায় বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) একাধিকবার নির্দেশনা ও সময়সীমা নির্ধারণ করলেও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৭ ডিসেম্বরের পর ভিটিএস ছাড়া কোনো যানবাহনকে এয়ারসাইডে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো যানবাহন অনুমোদনহীনভাবে প্রবেশ করলে কিংবা নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচল করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে উড়োজাহাজের নিরাপদ ওঠানামা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী ও বিমানবন্দরের কর্মীদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন যান কোথায় রয়েছে, কী গতিতে চলছে এবং অনুমোদিত এলাকায় অবস্থান করছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা প্রয়োজন। রানওয়ে বা ট্যাক্সিওয়েতে কোনো যানবাহনের সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, বেবিচকের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এয়ারলাইন্সগুলোর বিলম্ব নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত সব যানবাহনকে কেন্দ্রীয় নজরদারির আওতায় আনার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, ভিটিএস স্থাপনের জন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে একাধিকবার সময় দেওয়া হয়েছে এবং বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এবার আর সময় বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিটিএস স্থাপন না করলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনকে এয়ারসাইডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, বিশ্বের আধুনিক বিমানবন্দরগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিটিএস কার্যকর হলে এয়ারসাইডে চলাচলকারী অনুমোদিত যানবাহনের অবস্থান ও গতিবিধি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা না থাকায় এসব গাড়ির চলাচল কার্যকরভাবে নজরদারি করা যাচ্ছে না।
কোন এয়ারলাইন্স কতটি গাড়িতে ভিটিএস স্থাপন করেছে এবং কতটি গাড়ি এখনো বাকি রয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেবিচকের সূত্র অনুযায়ী, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা, স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সসহ বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোন এলাকায় উড়োজাহাজ ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বেবিচক ভিটিএস স্থাপন বাধ্যতামূলক করে। সদ্য স্থাপিত সিএনএস-এটিএম ও অ্যাডভান্সড সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের (এ-এসএমজিসিএস) আওতায় এই ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ জুনের মধ্যে সব যানবাহনে ভিটিএস স্থাপন করে তালিকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। এরপরও এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি। প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনীহা দেখা যায়।
এ অবস্থায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে গত ২৬ অক্টোবর ‘অতীব জরুরি’ চিঠি জারি করা হয়। পরিচালক মো. শামসুল হকের সই করা ওই চিঠিতে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে সব যানবাহনে ভিটিএস স্থাপন সম্পন্ন করে শতভাগ বাস্তবায়নের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেই সময়সীমাও পার হয়েছে। এরপরও কোনো উড়োজাহাজ কোম্পানি ভিটিএসযুক্ত যানবাহনের তালিকা জমা দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনসংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৭ ডিসেম্বরের পর ভিটিএস ছাড়া কোনো যানবাহন এয়ারসাইডে চলাচল করতে পারবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে এবং এর ফলে কোনো দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তাঝুঁকি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দায়ভার বহন করতে হবে বলেও বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যানবাহনে ট্র্যাকার স্থাপন করা হলে রাডারভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি গাড়ির অবস্থান ও গতিবিধি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কোনো গাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করলে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিমান ওঠানামার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা যাবে।
কিন্তু বারবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও ভিটিএস স্থাপন না করার কারণ জানতে চাইলে এয়ার অ্যাস্ট্রার হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড এয়ারলাইন সিকিউরিটি গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এবিএম সারওয়ার জামান বলেন, ভিটিএস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই ভিটিএস স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিটিএস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিগগিরই প্রয়োজনীয় তালিকা বেবিচকের কাছে জমা দেওয়া হবে।
বিমানবন্দরের এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন ঘটনায় উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার নজির রয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি পুশকার্টের ধাক্কায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং উড়োজাহাজের নোজ হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়েছিল। এর আগে ২০২২ সালে বিমানের হ্যাঙ্গার থেকে একটি বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজ বের করার সময় সেটি সেখানে অবস্থানরত আরেকটি বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজকে ধাক্কা দেয়। একই বছর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ট্রলি বিমানের একটি উড়োজাহাজে আঘাত করে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এয়ারসাইডে যানবাহনের অবস্থান ও চলাচল পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বেবিচক সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে অ্যাডভান্সড সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এ-এসএমজিসিএস) এবং ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে প্রতিটি যানবাহনের অবস্থান, গতি ও চলাচলের রুট তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড সাপোর্ট যান, ক্যাটারিং ভ্যান, কার্গো ভ্যান ও অন্যান্য সেবামূলক যানবাহনে প্রয়োজনীয় ট্র্যাকার স্থাপন না করায় প্রযুক্তিটির পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের নিয়ন্ত্রকরা রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, অ্যাপ্রোন ও সংলগ্ন এলাকায় চলাচলকারী বা অবস্থানরত উড়োজাহাজ এবং অন্যান্য যান্ত্রিক যান শনাক্ত করতে পারেন। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি সাধারণত নির্মাণের সময় থেকেই সংযোজিত থাকে। কিন্তু গাড়ি, বাস ও অন্যান্য সেবামূলক যানবাহন শনাক্ত করতে সেগুলোতে আলাদা ভেহিকেল ট্র্যাকার স্থাপন করতে হয়।
বিমানবন্দরের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে শতাধিক ভেহিকেল ট্র্যাকার ও সংশ্লিষ্ট শনাক্তকরণ সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব। তবে যানবাহনে ট্র্যাকার স্থাপন এবং সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় নজরদারির আওতায় আনা না গেলে বিদ্যমান প্রযুক্তির কার্যকারিতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাবে না। ফলে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দেশনার বাস্তবায়নই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষার পথে আর্থিক বাধা দূর করতে শুভকে সহায়তা এবিজি ফাউন্ডেশনের
গাজীপুর প্রতিনিধি: অভাবের কারণে যেন ঝরে না পড়ে শিক্ষাজীবন, পূরণ হয় স্বপ্ন—এমন প্রত্যাশা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসলিম আহমেদ শুভ। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতায় প্রায় দুই বছরের স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি ও নিবন্ধন ফি বকেয়া পড়ে যাওয়ায় তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত তার শিক্ষাজীবন সচল রাখতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবিজি (আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ) ফাউন্ডেশন।
গাজীপুরের পাজুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা শুভর পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস তার বাবার পরিশ্রম। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি স্থানীয় ডেইরি ফার্ম থেকে দুধ কিনে বাজারে বিক্রি করেন। পাশাপাশি অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেও সংসারের খরচ জোগান। সীমিত আয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটানোর পর ছেলের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন শুভ। গত চার বছর ধরে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তির আওতায় প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে পেয়ে আসছেন তিনি। এই অর্থ তার শিক্ষার ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে।
তবে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক চাপ আরও বেড়ে যায়। শিক্ষাবৃত্তির টাকা দিয়ে কোচিংয়ের মাসিক বেতন পরিশোধ করলেও স্কুলের জমে থাকা বকেয়া, পরীক্ষার ফি ও এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন ফি দেওয়ার মতো অর্থ পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। এতে তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
শুভর এই সংকটের কথা জানতে পেরে তার শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে এগিয়ে আসে এবিজি ফাউন্ডেশন। গত রোববার গাজীপুর মহানগরের চাপুলিয়ায় অবস্থিত মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শুভর প্রায় দুই বছরের বকেয়া বেতন, পরীক্ষার ফি, এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন ফিসহ অন্যান্য বকেয়া পরিশোধের জন্য অনুদান দেওয়া হয়।
এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার, শিক্ষার্থী তাসলিম আহমেদ শুভ ও তার মা নাছিমা বেগমের হাতে এবিজি ফাউন্ডেশনের অনুদানের চেক তুলে দেন কালের কণ্ঠের স্টাফ ফটোসাংবাদিক লুৎফর রহমান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে। এই সহযোগিতার ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি এবিজি ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শুভর মা নাছিমা বেগম। তিনি এবিজি ফাউন্ডেশন ও বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
আর্থিক সংকটের কারণে যে শিক্ষাজীবন থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এবিজি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সেই বাধা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন শুভ। তার মতো অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ পড়াশোনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণেও আশার আলো দেখায়।
দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ জানাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা
মেলায় দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্টাডি অ্যাব্রোড কনসালটেন্সি, আইইএলটিএস ও অন্যান্য পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কেন্দ্রসহ শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
একই স্থানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা, স্কলারশিপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিয়ম, শিক্ষার্থী ভিসা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ শিক্ষা পরামর্শক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিজেদের পছন্দ ও লক্ষ্য অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কোর্স সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য মেলায় প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ফ্রি টিকিট সংগ্রহ এবং মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে হবে fairconvener.com ওয়েবসাইটে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলায় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান স্টল নেওয়ার সুযোগ পাবে। এর মধ্যে রয়েছে—
এডুকেশন কনসালটেন্সি ও স্টুডেন্ট ভিসা এজেন্সি। দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ। আইইএলটিএস, স্পোকেন ইংলিশ ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের দোকান। ট্রাভেল ও এয়ার টিকিটিং এজেন্সি। ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ ও বিমা প্রতিষ্ঠান।