Previous
Next

সর্বশেষ

নদীভাঙন ঠেকাতে ৩২০ কোটি টাকার প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন

নদীভাঙন ঠেকাতে ৩২০ কোটি টাকার প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ৩২০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন হবিগঞ্জ-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন।

পরিদর্শনকালে তিনি উপজেলার পাহাড়পুর থেকে সৌলরীবাজার পর্যন্ত নদীভাঙনপ্রবণ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন কার্যক্রম ও নদীভাঙন প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম. রেজাউল করিম, আজমিরীগঞ্জ প্রকল্প কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, নদীভাঙন আজমিরীগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে সরকারের গৃহীত প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে দ্রুত বাস্তবায়নের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নদীভাঙন রোধে ৩২০ কোটি টাকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আজমিরীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

 মাধবপুরে ডাকাতির ঘটনায় মূল হোতাসহ ৭ ডাকাত গ্রেপ্তার

মাধবপুরে ডাকাতির ঘটনায় মূল হোতাসহ ৭ ডাকাত গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগান এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় মূল হোতা ডাকাত সর্দার আমির হোসেনসহ সাতজন সক্রিয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ডাকাত সর্দারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ায় তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহা উদ্দিন আহমেদ লিটন প্রশংসায় ভাসছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে কাজ শেষে ন্যাশনাল টি কোম্পানির তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহা উদ্দিন আহমেদ লিটন, হেড ক্লার্ক, পিএফ ক্লার্কসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী একটি ভাড়া করা নোহা গাড়িতে করে বাগানে ফিরছিলেন। পথে সুরমা চা বাগান এলাকায় পৌঁছালে মুখোশধারী একদল ডাকাত সড়কে ওঁৎ পেতে থেকে তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। ডাকাতরা গাড়ির চালক মো. শাহীন মিয়াকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে চা বাগানের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ডাকাত সর্দার আমির হোসেনের নেতৃত্বে চালককে ছুরিকাঘাত করে নোহা গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাহসিকতার পরিচয় দেন বাগান ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহা উদ্দিন আহমেদ লিটন। তিনি হাতে থাকা ওয়াকিটকি দিয়ে ডাকাত সর্দার আমির হোসেনের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এতে অন্য ডাকাতরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ডাকাত সর্দারকে আটক করা হয় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চালক শাহীন মিয়াকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি ও মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। আটক ডাকাত সর্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরদিন ১৯ জুলাই অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও ছয়জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। পরে গ্রেপ্তার সাত ডাকাতকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাকাত সর্দারকে আটক করে বড় ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখায় তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহা উদ্দিন আহমেদ লিটনকে স্থানীয় বাসিন্দারা সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য প্রশংসা জানিয়েছেন

চাকরির নিরাপত্তা-স্থায়ীকরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী-হুইপের কাছে স্মারকলিপি

চাকরির নিরাপত্তা-স্থায়ীকরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী-হুইপের কাছে স্মারকলিপি

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত, আউটসোর্সিংয়ে হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ, চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। সমিতির কেন্দ্রীয়  আহ্বায়ক মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ মাঠপর্যায়ের সরকারি কার্যালয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারী ১০ থেকে ২৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তারা এখনো স্থায়ী নিয়োগ, চাকরির নিরাপত্তা ও মৌলিক শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত বলে দাবি করা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় জারি করা ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’-এ দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষিত হয়নি। নীতিমালায় উৎসব ভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ন্যূনতম মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বিধান না থাকায় কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি সংগঠনের। এতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দক্ষ কর্মচারীদের আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় হস্তান্তরের উদ্যোগ তাদের চাকরির নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। পাশাপাশি মাসের প্রায় ৩০ দিন দায়িত্ব পালন করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাত্র ২২ দিনের মজুরি দেওয়া হচ্ছে, যা শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিকের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের প্রেক্ষাপটে পরিবার নিয়ে ন্যূনতম জীবনযাপন নিশ্চিত করার জন্যও যথেষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দেওয়া স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়, ২০০৩ সালের ‘কাজ নাই, মজুরি নাই’ সংক্রান্ত পরিপত্র বাতিলের পর থেকে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীরা বিভিন্ন সাংবিধানিক ও শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর এ খাতে নতুন বরাদ্দ না দেওয়ার শর্তের কারণে ডাক বিভাগ, প্রাথমিক শিক্ষা, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মিটফোর্ড হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক মাস্টাররোল ও দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে এবং আউটসোর্সিংয়ের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে অভিযোগ করা হয়। স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের কাছে দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মচারীদের বয়স শিথিল করে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব খাতে স্থায়ীকরণ বা আত্তীকরণ, বিনা কারণে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং আউটসোর্সিংয়ে হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে হাজারো দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী ও তাদের পরিবারের কর্মসংস্থান, জীবন-জীবিকা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।


আজমিরীগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ॥ মৃত্যু নিয়ে রহস্য ॥ পলাতক স্বামী-স্বজনরা

আজমিরীগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ॥ মৃত্যু নিয়ে রহস্য ॥ পলাতক স্বামী-স্বজনরা

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগড় স্বামীর বাড়ি থেকে জাকিয়া সুলতানা তন্নী (২২) নামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যা করে লাশ ঘরের ভেতর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার নগর পশ্চিমহাটি এলাকায় স্বামী জিল্লুর রহমানের বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে হাটুভাঙ্গা ও রক্তাক্ত অবস্থায় তন্নীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত তন্নী উপজেলার শিবপাশা গ্রামের বং মহল্লার মৃত ডা. মোখলেসুর রহমানের মেয়ে। ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই তন্নীর বিয়ে হয় আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার নগর পশ্চিমহাটি এলাকার মুজিবুর রহমান ওরফে মোজাই মিয়ার ছেলে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে। জিল্লুর রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঢাকা বনানী সদর দপ্তরে সৈনিক হিসেবে কর্মরত। সে সরকারি চাকরি করায় বিয়ের সময়ই পর্যাপ্ত পরিমাণ উপহার সামগ্রী দেয়া হয় যৌতুক হিসেবে। কয়েকদিন আগে তিনি ছুটিতে বাড়িতে আসেন। তন্নীকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালায়। বিষয়টি তন্নী তার পরিবারকে অবগত করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামীর ঘরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর থেকেই স্বামী জিল্লুর রহমানসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন।

নিহতের বোন মফু আক্তার অভিযোগ করেন, ‘আমার বোনকে হত্যা করে পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। লাশের শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্নই সেটি প্রমাণ করে। এ বিষয়ে আজ সোমবার আজমিরীগঞ্জ আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করব।’ 

তবে অভিযোগের বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি আকবর আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল শেষে সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে শশুর বাড়ির লোকজন পলাতক থাকায় সন্দেহের তীর আরও ঘনীভূত হচ্ছে।


বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়কের পাশে বালুর স্তুপ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়কের পাশে বালুর স্তুপ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

হবিগঞ্জ-বানিয়াচং আঞ্চলিক মহাসড়কের শুটকি ব্রিজের দক্ষিণ পাশে সড়কের ধার ঘেঁষে বিশাল বালুর স্তুপ ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। হালকা বাতাসেই বালু উড়ে চালকদের চোখে-মুখে এসে পড়ায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটছে এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একাংশ বালুতে ঢেকে গিয়ে রাস্তা অনেকটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিপরীত দিক থেকে যানবাহন এলে পাশ কাটাতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বিপজ্জনক পরিস্থিতি।

স্থানীয় সিএনজিচালক মো. করিম বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। বাতাস উঠলেই বালু উড়ে চোখে ঢুকে যায়। সামনে কিছুই দেখা যায় না। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

মোটরসাইকেল চালক রুবেল মিয়া বলেন, “রাস্তার পাশে এভাবে বালু ফেলে রাখা খুবই বিপজ্জনক। বিশেষ করে রাতে চলাচল করতে আরও ভয় লাগে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ঘটনা অনিবার্য।”

এক পিকআপচালক বলেন, “বালুর কারণে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। বিপরীত দিক থেকে গাড়ি এলে পাশ কাটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”

এলাকাবাসী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা দ্রুত সড়কের পাশ থেকে বালুর স্তুপ অপসারণ করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ আঞ্চলিক সড়কে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা শুধু জনভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি

জলাবদ্ধতা নিরসনে হবিগঞ্জ পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

জলাবদ্ধতা নিরসনে হবিগঞ্জ পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

হবিগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নোয়াহাটি-আনোয়ারপুর খাল ও কালিবাড়ি ক্রস রোড এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে হবিগঞ্জ পৌরসভা। রোববার সকালে পৌরসভার কনজারভেন্সি শাখার উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, নোয়াহাটি-আনোয়ারপুর খালের তলদেশে জমে থাকা পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্য ও ঝোপঝাড়ের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এক্সকাভেটর ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে খাল থেকে ময়লা-আবর্জনা ও পলি অপসারণ করেন। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ স্বাভাবিক হয়।

একই সঙ্গে শহরের ব্যস্ততম কালিবাড়ি ক্রস রোড এলাকায়ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সড়কের দুই পাশের ড্রেন থেকে জমে থাকা কাদা ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি সড়ক পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া মশার প্রজনন রোধে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হয়।

পৌরসভার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে নিয়মিতভাবে ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে খাল ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে নাগরিকদের সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় এসব কার্যক্রমের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ড্রেন ও খালে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা বন্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা

হবিগঞ্জ কারাগারে অর্থের বিনিময়ে মিলছে বিশেষ সুবিধা ॥ তদন্তের দাবি

হবিগঞ্জ কারাগারে অর্থের বিনিময়ে মিলছে বিশেষ সুবিধা ॥ তদন্তের দাবি

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জেল সুপার মুজিবুর রহমানসহ কারাগারের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিট বাণিজ্য, ওয়ার্ড বাণিজ্য, মোবাইল কল বাণিজ্য, সাক্ষাৎ বাণিজ্য এবং ক্যান্টিনে অতিরিক্ত দামে খাদ্যপণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ এনে সম্প্রতি জেল ফেরত মো. সামছুদ্দিন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সামছুদ্দিন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কারাগারের হাসপাতালে সিট পেতে নিয়মের পরিবর্তে প্রতি মাসে ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগও করা হয়েছে। এভাবে হাসপাতালের সিট বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থের বিনিময়ে কারাবিধির বাইরে বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিলে বিশেষভাবে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বন্দিদের খাবার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি বরাদ্দের খাবারের মান নিম্নমানের হলেও কারাগারের ক্যান্টিনে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাইরে কাঁচা মরিচের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা হলেও ক্যান্টিনে ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়। বাজারে পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা হলেও ক্যান্টিনে এক কেজি পেঁয়াজ ১৪০ টাকায় বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে জেল সুপার মুজিবুর রহমান, সুবেদার বিলাল, সুবেদার মিজান ও প্রধান রক্ষী ইকবালসহ একটি সিন্ডিকেটকে এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. সামছুদ্দিন বলেন, কারাগারের ভেতরে টাকা দিলে সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। সিট বাণিজ্য, ওয়ার্ড বাণিজ্য, মোবাইল কল বাণিজ্য, সাক্ষাৎ বাণিজ্য এবং প্রভাবশালী বন্দিদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মতো নানা অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

জেল ফেরত জাকির হাসান বলেন, সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক মামলায় দেড় বছর হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলাম। সেখানে খাবারের মান খুবই নিম্নমানের ছিল। তবে টাকা দিলে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়।

হাবিব মিয়া নামে আরেক জেল ফেরত ব্যক্তি বলেন, কারাগারের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়। কেউ অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।"