Previous
Next

সর্বশেষ

বানিয়াচংয়ে ভাতিজার আঘাতে চাচার মৃত্যু, এলাকায় চাঞ্চল্য

বানিয়াচংয়ে ভাতিজার আঘাতে চাচার মৃত্যু, এলাকায় চাঞ্চল্য

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৯নং পুকড়া ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে ভাতিজার আঘাতে চাচার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুফি মিয়ার ছেলে সামায়েল মিয়া (২৪) তার আপন চাচা রউফ মিয়ার ওপর হামলা চালায়।

এ সময় সামায়েলের আঘাত রউফ মিয়ার নাকে লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও বিরাজ করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফের স্বর্ণের দাম বাড়ল, ভরি কত?

ফের স্বর্ণের দাম বাড়ল, ভরি কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। সে হিসেবে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গুনতে হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা।

আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে সবশেষ গত ৯ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩২ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২৩ দফা। 

 এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে এবার দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। এবার ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজমিরীগঞ্জে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজমিরীগঞ্জে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

আসাদুজ্জামান মিশু : হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৭০ হাজার ২৬১ টাকা ব্যয়ে দুটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন।

পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় জলসুখা ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদী থেকে সিমট হাওর পর্যন্ত চুরখাই খাল এবং নলাই নদী থেকে দারগা খাল পর্যন্ত অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি ভরাট হয়ে থাকায় স্থানীয় কৃষকরা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে ভুগছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ডা. জীবন বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই উন্নয়ন কার্যক্রম দৃশ্যমান হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যে আরও অনুদান আসবে এবং প্রতিটি কাজ যেন মানসম্মত ও টেকসই হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, প্রকল্পটি সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নির্ধারিত নকশা ও গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি থাকবে।

আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আকবর হোসেন টিপু বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকাররম হোসাইন রন্টি বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে খাল দুটি পুনঃখনন করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

খাল দুটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অতিদরিদ্র মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জেলায় তলিয়ে গেছে ২’শ ৮১ হেক্টর জমি ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৮’শ ৫ মেঃ টন ধান

জেলায় তলিয়ে গেছে ২’শ ৮১ হেক্টর জমি ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৮’শ ৫ মেঃ টন ধান

হবিগঞ্জ জেলার চার উপজেলায় বৃষ্টিতে ২৮১ হেক্টর বোরো জমির প্রায় ১ হাজার ৮০৫ মেট্রিক টন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) পর্যন্ত এই ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এসব জমি তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিম্নাঞ্চলে আবাদ করা আরও ৪৬ হাজার হেক্টর জমির মালিকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ধান ৮০ শতাংশ পাকার পরই কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ বছর বোরো মৌসুমে জেলার নয় উপজেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও দেশীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে। এ থেকে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান বা ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এর মধ্যে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বেড়ে বানিয়াচং উপজেলায় ২১৮ হেক্টর, আজমিরীগঞ্জে ১৮, নবীগঞ্জে ২০ ও লাখাই উপজেলায় ২৫ হেক্টরসহ মোট ২৮১ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০৫ মেট্রিক টন ধানের ক্ষতি হয়েছে।

এখন পর্যন্ত বোরো ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ হয়নি। অন্যান্য বছরের মতো প্রতি কেজি ৩০ টাকা ধরে জেলার লক্ষ্যমাত্রার ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধানের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এদিকে জেলার মোট আবাদ করা জমির বড় একটি অংশ হাওরের নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত। বৃষ্টির পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি জমি তলিয়েছে বানিয়াচং উপজেলায়। এর মধ্যে উগলী হাওরের বর্গাচাষি সিজিল মিয়ার ৩০ বিঘা, উজ্জ্বল মিয়ার ৩৫ বিঘা, সাজিদ মিয়ার ১০ বিঘা, আকল মিয়ার ১২০ বিঘা, আদম আলীর ১০ বিঘা ও আওয়াল মিয়ার ৫ বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এক কৃষক জানান প্রায় ৯০ হাজার টাকা লগ্নি করে তিনি জমিগুলো আবাদ করেছিলেন। সেখান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। জমির সব ধান তলিয়ে যাওয়ায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

আওয়াল মিয়া বলেন, আগের বছরের ৫০ হাজার টাকার ঋণের সঙ্গে এবার আরও ৫০ হাজার টাকা যোগ হয়েছে। মোট দেনা দাঁড়িয়েছে এক লাখ টাকা। ফসল বিক্রি করে ঋণ শোধের কথা থাকলেও জমি তলিয়ে যাওয়ায় তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাওনাদারের চাপের চিন্তায় রাতে তার ঘুম হচ্ছে না।

উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের বাগাহাতা ও চেপ্টির হাওরের নিম্নাঞ্চলে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে চারটি সেচযন্ত্র বসিয়েছেন। দিন-রাত মেশিন চালিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা চলছে। বৃষ্টি না হওয়ার জন্য গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মোনাজাতও করেছেন তারা।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার আবাদ করা মোট জমির ৩৮ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৬ হাজার ৯৫৪ হেক্টর হাওরের নিম্নাঞ্চলে। এসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পাকার পরই কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিচু জমির কিছু অংশে গত ৫ এপ্রিল থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কর্তনের হার শূন্য দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। আগামী ২৭ মে’র মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। নদ-নদীর পানি এখনো আশঙ্কাজনক হারে বাড়েনি। বৃষ্টিপাত বেশি না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ সীমিত থাকতে পারে। হাওরের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।


হবিগঞ্জ পৌরসভার মশকনিধন অভিযান উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ

হবিগঞ্জ পৌরসভার মশকনিধন অভিযান উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ

হবিগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ।

উদ্বোধনকালে জি কে গউছ বলেন, নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

সংসদ সদস্য পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর করতে সচেতন হতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মো. মঈনুল হক, হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাইয়ুম, হবিগঞ্জ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাবেদ ইকবালসহ পৌরসভার অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উদ্বোধনের পর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও এর সংলগ্ন জলাশয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং মশা নিধনে ওষুধ ছেটান।

পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

পহেলা বৈশাখকে বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বজুড়ে থাকা সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর ১৪৩৩-কে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, শতাব্দীকাল ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে নতুনের আহ্বান নিয়ে ফিরে আসে। এটি আমাদের অতীতের জীর্ণতা ও গ্লানি মুছে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

কৃষি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এই অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। প্রযুক্তির এই যুগেও আমাদের কৃষকরা প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যগুলো আমাদের ঐক্যবদ্ধ ও উজ্জীবিত করে।"

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির মতো জনবান্ধব উদ্যোগগুলো এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।

বিশেষ ঘোষণা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানান, নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই দেশজুড়ে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কার্ড ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক সহনশীলতা এবং উদারতা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশ্বজুড়ে চলমান সংকট ও সংঘাতের এই সময়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তি বজায় রাখা জরুরি। আসুন, আমরা সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে মানবকল্যাণের পথে চলি।"

সবশেষে তিনি নতুন বছর সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এই কামনা করে দেশবাসীকে আবারও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।