বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত, চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ রোধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এসব অভিযান পরিচালনা করে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫৫ বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের সুরমা চা-বাগান এলাকায় অভিযান চালায়। এলাকাটি সীমান্ত থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে। এ সময় রাস্তার পাশে একটি সন্দেহজনক ড্রাম ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে ট্রাকে বহন করা বালির নিচে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ভারতীয় শাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় কসমেটিকস উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে চোরাচালানকারীরা এসব পণ্য বালির আড়ালে পরিবহন করছিল বলে বিজিবি জানিয়েছে। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকা।
এদিকে, ৫৫ বিজিবির অধীন সিন্দুরখান, সাতছড়ি ও তেলিয়াপাড়া বিওপির টহলদল পৃথক চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সিন্দুরখান বিওপির টহলদল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিমাইলত এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাতছড়ি বিওপির টহলদল হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গারোটিলা এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৯৬ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে। একই দিন রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে তেলিয়াপাড়া বিওপির টহলদল মাধবপুর উপজেলার ২০ নম্বর চা-বাগান এলাকা থেকে ১০ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ করে।
বিজিবি জানায়, এসব তিনটি অভিযানে মোট ১৪০ বোতল ভারতীয় মদ ও ১০ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মদ ও গাঁজার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
বালির আড়ালে চোরাচালান, হবিগঞ্জে বিজিবি’র অভিযানে শাড়ি-কসমেটিকসসহ মাদক জব্দ
সব মিলিয়ে পৃথক অভিযানগুলোতে জব্দ করা ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, মদ ও গাঁজার সর্বমোট সিজার মূল্য ১ কোটি ৬ লাখ ৭ হাজার ৪০০ টাকা।
জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান দমনে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ৫৫ বিজিবির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি ও জননিরাপত্তা সুরক্ষায় সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।