Previous
Next

সর্বশেষ

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশের দাবিতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার সকালেই বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে পরিবার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সমাবেশে শেখ আল আমিন ও বিপ্লব দাশ (উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা), কাজর দাস (উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা) এবং অফিস সহকারী আব্দুল ওয়াদুদ, নুরুল হোসেন ও রজব আলীসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। তারা জানান, দ্রুত সময়ে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণের আশঙ্কা রয়েছে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সমাবেশ শেষে কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংকটের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এই সংকটের মূল কারণ যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর কার্যকর সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, শিবিরের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ড. ইউনূস স্পষ্টভাবে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, শিবিরে বেড়ে ওঠা হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সাক্ষাৎকালে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন রোহিঙ্গা শিবিরে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি শরণার্থীদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে এবং জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত এক বছরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি এখনও প্রত্যাশিত বৈশ্বিক মনোযোগ পাচ্ছে না। প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে ভাসানচরের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জানান, কিছু রোহিঙ্গা ভাসানচর ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, নতুন ভোটারদের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াকে উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, ইউএনএইচসিআর-এর নতুন প্রতিনিধি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

জবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ, উত্তাল ক্যাম্পাস

জবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ, উত্তাল ক্যাম্পাস

বিশেষ বৃত্তি ও আবাসন ভাতার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। এতে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভবনের ভেতরে রাতভর অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেন। দুপুর ১২টার দিকে তারা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে রবিবার সকালেই আবাসন ভাতার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ভিসি ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান নিয়েই তারা তালাবদ্ধ কর্মসূচি পালন শুরু করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘২০ ব্যাচের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত মানি না’, ‘বৈষম্যের সিদ্ধান্ত মানি না’, ‘১, ২, ৩, ৪—বৃত্তি মোদের অধিকার’, ‘বৃত্তি আমার অধিকার, না দেওয়ার সাধ্য কার?’সহ নানা স্লোগান দেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচ একটি গৌরবান্বিত ব্যাচ। প্রথম বর্ষে পুরান ঢাকার গিঞ্জি পরিবেশে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। তবে নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রথম কিস্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন। অথচ যমুনা আন্দোলনে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তিনি আরও বলেন, একক সিদ্ধান্তে বিষয়টি সমাধান সম্ভব নয়। কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা প্রায় ২৫-৩০ জন অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। সব কিছুরই একটা সীমা আছে।”