গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমীপে খোলা চিঠি

জনাব, আমার সালাম গ্রহণ করিবেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ কৃপায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আমি একজন প্রবাসী হিসেবে অত্যান্ত খুশি হয়েছি। আপনি যখন লন্ডনে ছিলেন ঐ সময়ে আমি বিএনপির কোন সদস্য না হয়েও আপনার বিভিন্ন মিটিংয়ে দর্শক হিসাবে যোগ দিতাম এবং বিশেষ করে আপনার আশানীয়া বক্তব্যগুলো আমার ভাল লাগতো। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার প্রতি ১/১১ এর সময় যে অমানুষিক অত্যাচার করেছিল এবং নির্মম অত্যাচারে আপনাকে প্রায় মেরে ফেলার উপক্রম করেছিল সেই সময়ে আমার জীবনের ঝুকি নিয়ে এই অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছি এবং বিষয়টি জানার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করি। এখন আমার শেষ বয়সে এসে আমি বাংলাদেশের জনগণকে জানিয়ে দিতে চাই যাহারা আপনার প্রতি এহেন নির্মম অত্যাচার করেছিল তাদের মধ্যে প্রধান ব্যক্তি হলো আমাদের হবিগঞ্জ জেলার লোক। কিন্তু আজকাল অনেকে মনগড়া মত প্রকাশ করে বাহবা নিতে চাইছে, তাহা একবোরেই সঠিক নয়। যদি এ বিষয়ে কোন বিচার কার্য শুরু হয় তাহলে আমার এই সূত্রটি গ্রহণ করতে পারবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রধানমনন্ত্রী। আর তাই আপনার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিবেন। আপনি আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অবহেলা না করে চোখ কান খোলা রেখে পর্যবেক্ষণ করুন। আপনার ক্ষতি করার জন্য স্বার্থবাদীরা আপনার আশে পাশেই রয়েছে। আমরা দেখেছি শেখ মুজিবুর রহমানের স্ব-পরিবারে নির্বিচারে হত্যা কান্ড, আমরা দেখেছি আপানার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড, আমরা দেখেছি আপনার মাতা আপোষহীন নেত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আর সেজন্যই আপনি আপনার নিরাপত্তার বিষয়টি আরো জোরালো এবং খুব সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি আব্দুল মালেক ভাইয়ের ব্যপারে কিছু বলতে চাই। তাহার কিছু কিছু উদ্দ্যোগ আমার ভাল লাগে। যেমন আপনার মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে জরুরী চিকিৎসার জন্য লড়াই করেছে। বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালেক ভাইকে চা'য়ের দাওয়াত দিয়ে ছিলেন। কিন্তু মালেক ভাই শর্ত দিয়ে বলেছিলেন আমার নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে তাহলেই আমি চা'য়ের দাওয়াত নিব। এমন ত্যাগী নেতাকে আপনার মাধ্যমে ধন্যবাদ দিতে চাই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাঝে মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এবং টেলিভিশনে কিছু দৃষ্টি কঠোর পাশ্চাত্য ঢংয়ের বিনোদন করতে দেখা যায়। যা আপনার জন্য একে বারেই বেমানান। ঐ সমস্ত বিনোদন থেকে আপনাকে নিরাপদ রাখবেন যেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষসহ কেউ ট্রল করতে না পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে উপদেশ দেয়ার মতো ক্ষমতা নাই। তবুও অনেক কিছু বলেছি। আমরা প্রবাসীরা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জন্য আপনার চলমান কর্মসূচিকে সমর্তন করি। আমাদের সিলেটের সন্তান বাংলাদেশের চিত্র জগতের নায়ক সালমান শাহ হত্যার সঠিক বিচার এবং সাগর ও মেহরুন রুনি হত্যার সঠিক বিচার করবেন এই প্রত্যাশা রাখি। আমি আশা করি দেশে ন্যায় নীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। কেউ কাহারও উপর অন্যায় করিলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

পরিশেষে মহান আল্লাহ সুবহানু তায়ালার কাছে আপনার সুসাস্থ ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

বি:দ্র: বাংলাদেশের জেনারেলদের ষড়যন্ত্র, ইমারজেন্স অব বাংলাদেশ ইত্যাদি অনেক প্রবন্ধের 

লেখক ও গবেষক দেওয়ান কাইউম

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্বাধীনতা ফাউন্ডেশন ও প্রবাস ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্য


শেয়ার করুন