স্থানীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সদস্য মোঃ হেলাল মহালদার জানান, “আমাদের পাম্পে ডিজেল ব্যতীত পেট্রোল ও অকটেন দুই লিটার করে বিক্রি হচ্ছে।”
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেও পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই পরিবহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনের সারি এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোনো কোনো ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সেসব পাম্পের সামনেও ডিজেল, পেট্রোল বা অকটেন পাওয়ার আশায় যানবাহনের চালকরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।
অনেক চালক দুই-তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। একাধিক চালক জানান, অনেকের গাড়ির তেল একেবারে শেষ হয়ে গেছে। আবার কারও গাড়িতে অল্প তেল রয়েছে। এ অবস্থায় অন্য পাম্পে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। পাম্প ছেড়ে চলে গেলে মাঝপথে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হওয়ায় জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
