সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের শায়েস্তানগর, সিনেমাহল এলাকা, বেবিস্ট্যান্ড, চৌধুরী বাজার, বাণিজ্যিক এলাকা, চাষি বাজার, কোর্ট স্টেশন, কামড়াপুর ব্রিজ এবং শায়েস্তাগঞ্জের দাউদনগর, রেল স্টেশন, পুরান বাজার ও ড্রাইভার বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে খোলা পরিবেশে ইফতারি বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ দোকানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ধুলাবালি, মাছি ও দূষিত পরিবেশের মধ্যেই খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি করা হচ্ছে।
বিক্রেতাদের অনেকেই খোলা স্থানে বড় বড় পাত্রে জিলাপি, বেগুনি, পেঁয়াজু, ছোলা, আলুর চপসহ বিভিন্ন ইফতারি তৈরি করছেন। এসব খাবারের ওপর কোনো ঢাকনা না থাকায় সহজেই ধুলাবালি ও জীবাণু মিশে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জিলাপির উজ্জ্বল রং আনতে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
স্থানীয়রা জানান, অনেক বিক্রেতা একই তেল বারবার ব্যবহার করছেন এবং খাবার তৈরির জন্য বিশুদ্ধ পানির পরিবর্তে অপরিষ্কার পানি ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত এসব খাবার গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, খাদ্যে বিষক্রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
একাধিক ক্রেতা জানান, কম দামের কারণে অনেকেই এসব খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে তারা খাবারের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সচেতন মহলের দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
রমজান মাসে ইফতারির চাহিদা বাড়ার সুযোগে যাতে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বাজারজাত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
