বানিয়াচংয়ে জমি দখল করে রাস্তার পাশে টয়লেটের টাঙ্কি নির্মাণ ॥ পরিবেশ বিপর্যস্ত

বানিয়াচংয়ে জমি দখল করে রাস্তার পাশে টয়লেটের টাঙ্কি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। নির্মিত টয়লেটের টাঙ্কি ভেঙে ময়লা-আবর্জনা গিয়ে পড়ছে পাশের ডোবায়। এতে করে একদিকে পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পানি বাহিত রোগ-বালাই ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বানিয়াচং উপজেলার আদমখানী গ্রামের ছুরুক মিয়ার ছেলে আজিজুর রহমানের জায়গা দখল করে লুকু ঠাকুরের ছেলে আব্দুল মতিন ঠাকুর, বাবুল ঠাকুর ও আবুল ঠাকুর দুই বছর আগে ওই রাস্তার পাশে টয়লেটের টাঙ্কি নির্মাণ করেন। একাধিকবার আজিজুর রহমান গ্রামের মুরব্বিদের দারস্থ হয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত বাবুল ঠাকুরেরা আওয়ামীলীগ সরকারের প্রভাব কাটিয়ে তখনকার সময়ে টয়লেটের টাঙ্কিটি নির্মাণ করেন। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া সত্বেও তাদের ভয়ে মহল্লাবাসী প্রতিবাদ করেননি।

 

এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কয়েক মহল্লার মানুষ, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা সহ শত শত লোকজন চলাচল করেন। নাক চেপে চলাচল করতে হয় তাদের। এই টয়লেটের ময়লার দুর্গন্ধ বাতাসের সাথে মিশে পরিবেশের ক্ষতি করছে। আবার বিভিন্নরকম রোগ-বালাইয়েরও সৃষ্টি করছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, 'আমরা দুর্গন্ধের কারণে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। অন্য কোনো রাস্তা না থাকায় নিরুপায় হয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছি। প্রশাসনের নিকট আবেদন জানাই, দ্রুত টয়লেটের টাঙ্কিটি অপসারণ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব করার জন্য।'

ভুক্তভোগী আজিজুর রহমান বলেন, শরীফখানী মৌজার জে,এল নং-১১১ এর ১১৮ ও ৯২ দাগের আমার জায়গায় বাবুল ঠাকুরেরা টয়লেটের টাঙ্কি নির্মাণ করে। গত শুক্রবারে এই বিষয় নিয়ে মুরব্বিরা বসেছিলেন। তারা টয়লেটের টাঙ্কিটি অপসারণ করার কথা বললে প্রথমে অভিযুক্তরা রাজি হলেও পরে বিষয়টি এড়িয়ে যান।' তিনি বলেন, 'এই টাঙ্কির দুর্গন্ধ আমার ঘর পর্যন্ত আসে। মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে আমাদের। আমি এর প্রতিকার চাই।'

অভিযুক্ত বাবুল ঠাকুর বলেন, 'আমরা অনেকদিন যাবত এই জায়গা ব্যবহার করে আসছি। এই জায়গা যদি আমার না হয় এবং পরিবেশ নষ্ট হয়, তবে মুরব্বিরা যা বলবেন তাই হবে।'

পাঁচ-ছয় নং বাজারের সেক্রেটারি ও বিশিষ্ট মুরব্বি স্বপন মিয়া বলেন, 'আমরা বিষয়টি সুরাহার জন্য বসেছিলাম। কিন্তু সুরাহা হয়নি। প্রয়োজনে আবারো বসব।'

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী বলেন, 'পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, এমন কোনো কাজ করা যাবে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'


শেয়ার করুন