মামলার আসামিরা হল উমেদনগর গ্রামের আবু বকর সাজিম, অনন্তপুর গ্রামের রাহিম মিয়া, পুরান মুন্সেফীর তারিকুল ইসলাম হৃদয়, উমেদনগরের নুর আলম, ইনাতাবাদ গ্রামের সাইদুর রহমান হৃদয়, বহুলা মোকামবাড়ির সাইমুন, জনি, রনি, হাসান রাজা, মাবিন, উজ্জল, মাহিম, উমেদনগরের খোকা, তানভীর, রাজনগরের জিসান, রাহাত, তুহিন, জয়, মনু, মুহিম, মোশাহিদ, রাফিদ, রহিম, গোসাইপুরের আহাম্মদ আলী, শ্যামলীর শিশির, শংকরের মুখ এলাকার মহসিন, নিউ মুসলিম কোয়ার্টারের সজিব, মোহনপুরের ইমাদসহ আরও কয়েকজন। মামলার বিবরণে জানা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের এসব সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শহরের বহুলা মোকামবাড়ি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় নুর বানুর ছেলে সাইমুনের নেতৃত্বে একদল কিশোর গ্যাং সদস্য এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযানে কাদির মিয়ার ছেলে নুর আলম, দুলাল মিয়ার ছেলে তারিকুল ইসলাম হৃদয় এবং সেলিম মিয়ার ছেলে রাহিমকে আটক করে।
পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানায়, কিশোর গ্যাংটির নেতৃত্ব দিচ্ছে সাইমুন। তার নির্দেশনায় বিভিন্ন এলাকার কিশোরদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দল গড়ে তুলে তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এদিকে শহরে কিশোর গ্যাংয়ের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এসব কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত টহল জোরদার করেছে বলেও জানানো হয়েছে।
