মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কট্টরপন্থি রাজনৈতিক অবস্থান এবং পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্যের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি আরদাবিল প্রদেশের গভর্নর ও তেহরানের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, যার পর ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রায় ৪০ জন শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার, প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে ইরান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি।
এদিকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় কঠোর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে থাকবে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশনা অনুসরণ করেই ইরান এগিয়ে যাবে।
এরই মধ্যে পাল্টা হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলার সময় ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে ১৫২টি প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়। এছাড়া ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করে ৫০৬টি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিহত অন্য দুইজন পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
