নবীগঞ্জে বকেয়া বেতন-ভাতা না পেয়ে হতাশায় ইপিআই টিকাদান কর্মীরা

নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে কর্মরত ইপিআই (ঊচও) ভ্যাকসিন পোর্টাররা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন ও পরিবহন ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা জানিয়েছেন, বিগত ৮ মাসের বেতন এবং ২০ মাসের পরিবহন ভাতা না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে দিন কাটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পোর্টাররা নবীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করে সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আবেদনপত্রে তারা উল্লেখ করেছেন, হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার পোর্টাররা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ইপিআই সফলভাবে বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন থেকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আবেদন সূত্রে জানা গেছে, পোর্টারদের বকেয়া বেতন ২০২৪ সালের জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর; ২০২৫ সালের অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর; এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—মোট ৮ মাসের। একই সঙ্গে, ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে বর্তমান পর্যন্ত মোট ২০ মাসের পরিবহন ভাতাও এখনও পরিশোধ করা হয়নি।

দীর্ঘ সময় বেতন ও ভাতা না পাওয়ায় পোর্টারদের পরিবার-পরিজনের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা খরচ ইত্যাদি মেটাতে তারা প্রতিদিন কঠোর সংগ্রাম করছেন। দায়িত্ব পালন করলেও সরকারি বেতন ও পরিবহন ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে তাদের মানসিক ও সামাজিক অবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পোর্টাররা সরকারের ন্যায্য ও মানবিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এবং দ্রুত বকেয়া বেতন ও পরিবহন ভাতা পরিশোধের জোর আবেদন জানিয়েছেন।

নবীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ বলেন, “বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে পোর্টারদের বেতন ও ভাতা পরিশোধের জন্য ফান্ড না থাকায় সারাদেশের মতো নবীগঞ্জেও বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। আমরা প্রতি মাসের প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাচ্ছি। তবে এখনও কোনো আর্থিক সমাধান পাইনি।”



শেয়ার করুন