স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এখনও বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাদের কার্যক্রমে যথাযথ তদারকি না থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই ডিউটি শেষ করে ব্যক্তিগত চেম্বার বা প্রাইভেট প্র্যাকটিসে চলে যান। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি বিভাগেও অনেক সময় চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ইন্টার্নীরা চিকিৎসা দেন। ফলে আরোগ্যের বদলে আক্রান্তের শংকা থাকছে।
একাধিক রোগীর স্বজন জানান, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো নজরদারি ব্যবস্থা নেই। এতে করে যে যার মতো দায়িত্ব পালন করছেন, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপর।
হাসপাতালকে কেন্দ্র করে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারি ওষুধ অন্যত্র বিক্রির বিষয়ে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকলেও বাইরের কিছু ফার্মেসিতে একই ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে, যা রোগীদের সুস্থতার পরিবর্তে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের স্বজনরা হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদন্ত, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার না করলে হাসপাতালের সেবার মান আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
