স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর লাইব্রেরিটি আর কার্যকরভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে থাকে। ভাঙাচোরা অবকাঠামো, অযত্নে পড়ে থাকা বই ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে পাঠাগারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় কবি ও সাহিত্যিক ডা বশির আহমেদ বলেন, “একসময় এই লাইব্রেরি শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। স্থানীয় সংস্কৃতি চর্চা ও জ্ঞানবিকাশে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। লাইব্রেরি পুনরায় চালু হলে তরুণ প্রজন্মের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিধি বাড়বে এবং তারা মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকতে উদ্বুদ্ধ হবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরে লাইব্রেরিটি চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলাম। এটি সংস্কার হলে আমাদের সন্তানরা পড়াশোনায় আরও আগ্রহী হবে।”
আরেক বাসিন্দা সালমা বেগম জানান, “একটি সচল লাইব্রেরি তরুণদের খারাপ সঙ্গ ও মাদক থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
স্থানীয় এক শিক্ষার্থী বলেন, “লাইব্রেরি চালু হলে আমরা পড়াশোনার জন্য একটি ভালো পরিবেশ পাবো। এটি আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন হাফিজুর রহমান, পৌর প্রকৌশলী; মো. শাহজাহান মিয়া, ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল, আজমিরীগঞ্জ সরকারি কলেজ; আজমিরীগঞ্জ এ বি সি সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ইয়াসমিন বেগম। এছাড়া বইপ্রেমী, কবি, সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম রেজাউল করিম বলেন, “পাবলিক লাইব্রেরি একটি সমাজের জ্ঞানভিত্তিক অবকাঠামোর অপরিহার্য অংশ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইব্রেরিটিকে পুনরায় সচল করার আশ্বাস প্রদান করেন ।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশংসা করেছেন। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর অবহেলিত লাইব্রেরি সংস্কারের পদক্ষেপ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ উপকৃত হবে এবং এলাকায় জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।
