স্থানীয়দের অভিযোগ, উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদী তার স্বাভাবিক গভীরতা ও প্রশস্ততা হারিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীতে মিশে পানিকে দূষিত করেছে।
এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “নদী ছিল আমাদের প্রাণ। এখন নদীর বুক চিরে শুধু মাটি দেখা যায়। পানি নেই, মাছ নেই, আছে শুধু হতাশা।”
করাঙ্গী নদীর বড় একটি অংশ স্থানীয়ভাবে জবরদখলের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নদীর দুই পাড় ভরাট করে গড়ে উঠেছে স্থাপনা ও চাষের জমি। ফলে প্রাচীন প্রশস্ত নদী আজ অনেক জায়গায় সরু নালার মতো হয়ে গেছে। স্রোতের তীব্রতা হারিয়ে যাওয়ায় নদীর স্বাভাবিক স্বশোধন ক্ষমতাও কমে গেছে। এতে কলকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও গৃহস্থালি বর্জ্য জমে থেকে পানিকে করেছে ভারী ও দুর্গন্ধময়। এর প্রভাব পড়েছে নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর, কমে গেছে দেশি মাছের প্রজাতি, বিলীন হচ্ছে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী।
নদী শুকিয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রে। আগে নদীর পানি দিয়ে সেচ দেওয়া সম্ভব হলেও এখন কৃষকদের নির্ভর করতে হচ্ছে গভীর নলকূপের ওপর। এতে ব্যয় বেড়েছে, কমেছে উৎপাদন। অনেক জেলে পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, শুধু নদী নয়, এলাকার পুকুর, খাল-বিলও ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন সংকট।
অভিযোগ রয়েছে, নদী খনন বা দখলমুক্ত করতে কার্যকর ও টেকসই কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। মাঝে মাঝে আলোচনা হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত নদী পুনঃখনন, দখলমুক্তকরণ, উজানের পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে করাঙ্গী নদী একসময় মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। করাঙ্গী নদীর বর্তমান চিত্র যেন আমাদের সামনে এক কঠিন বার্তা তুলে ধরে, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা না করলে তার শক্তি, সৌন্দর্য ও উপকারিতা কেবল স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নেবে। এখনই যদি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো নদীর গর্জন নয়, শুধু গল্পই শুনবে।
