জানা গেছে, বর্তমানে অধিকাংশ সিলিকা বালুমহালের কোনো বৈধ ইজারা নেই। তবে একটি চক্র বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে পরিবেশ, কৃষিজমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলায় মোট ২৩টি সিলিকা বালুমহাল রয়েছে। এর মধ্যে মাধবপুর উপজেলায় আটটি, চুনারুঘাটে সাতটি এবং বাহুবল উপজেলায় আটটি বালুমহাল অবস্থিত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার মনতলা-চৌমুহনী ও বহরা এলাকায় বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া ও নদী থেকে চোরাই পথে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে মাধবপুরে ইজারা দেওয়া কোনো সিলিকা বালুমহাল নেই।
চুনারুঘাট উপজেলার মুরিচড়া, পানছড়ি গাদাছড়া, বদরগাজী, সুতাংছড়া ও কারাঙ্গী নদীসংলগ্ন এলাকায় টিলা ও ছড়া কেটে বালু নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব এলাকাতেও বর্তমানে কোনো বৈধ ইজারাদার নেই।
অন্যদিকে বাহুবল উপজেলার মিরপুর, ভাদেশ্বর, পুটিজুরি, সাতকাপন ও স্নানঘাট এলাকা থেকেও সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, গভীর খননের ফলে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জানিয়েছে, অননুমোদিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, টিলা ধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। এ বিষয়ে সংগঠনটি রিট দায়ের করলে বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। আদালত সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তিন মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর এবং এ বিষয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
.png)