রফিক মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তার স্ত্রী খাদিজা আক্তারের প্রসব ব্যথা ওঠে। পরে তাকে শহরের সেন্টাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পিজি হাসপাতালের অধ্যাপিকা তৃপ্তি দাশের তত্ত্বাবধানে তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের মাধ্যমে একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
তিনি আরও জানান, জন্মের সময় নবজাতকটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ইনজেকশন দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় নবজাতকটিকে পরে সদর হাসপাতালের শিশুদের স্ক্যানু ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।
রফিক মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি করার পর সারাদিন ও রাতভর নবজাতকটি সুস্থ অবস্থায় ছিল। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে এক আয়া নার্সের পরিবর্তে নবজাতককে একসঙ্গে দুটি ইনজেকশন পুশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই আয়া ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় রফিক মিয়া ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। নিজের চোখের সামনে সন্তানের মৃত্যু দেখেও কিছু করতে না পারার অসহায়ত্বে তিনি ভেঙে পড়েন। ঘটনার পরপরই হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করলে হাসপাতাল এলাকায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় অভিযুক্ত আয়া সেখান থেকে সটকে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও এমন কয়েকটি ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, অনেক সময় চিকিৎসকের পরিবর্তে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। একইভাবে নার্স ও ব্রাদারের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ওয়ার্ড বয়, ঝাড়ুদার ও আয়া ইনজেকশন পুশসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজ করে থাকেন। এ কারণে চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং রোগীদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক চিকিৎসক জানান, নবজাতকের মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ভুল চিকিৎসা নাকি ভুল ওষুধ প্রয়োগে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ আনতেই পারেন, তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে নবজাতকের পিতা রফিক মিয়া বলেন, তার সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রফিক মিয়া তার সন্তানের মরদেহ গ্রহণ করেননি। এদিকে নবজাতকের মৃত্যুর খবর শুনে তার মা খাদিজা বেগম আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। সন্তান হারানোর শোকে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
মর্মান্তিক এ ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা আর না ঘটে।
