বাহুবলে প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগে বালুখেকোরা বেপরোয়া

বাহুবলে প্রশাসনিক শূন্যতায় মাটি ও বালুখেকোরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে উঠা এ চক্রটি ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর হতেই উপজেলা জুড়ে রামরাজত্ব গড়ে তুলেছে। অবাক হওয়ার মত বিষয় হচ্ছে, বালু ও মাটিখকো চক্রের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক নীতি বাক্য নিয়ে সুশীলতায় সরব থাকতে দেখা যায়। এ চক্রটি মাটি-বালু ও চোরাকারবারের ঘটনা ঢাকতে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিতর্কিত করতে সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার করছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত। উল্লেখ্য, গত ১লা মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন চন্দ্র দে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলামকে বদলির আদেশ জারি হয়। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের কয়েকটি দপ্তরে  গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকার প্রেক্ষাপটে দুই শীর্ষ কর্মকর্তার একযোগে বদলির ঘটনায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিরাজ করছে।
 

এ সুযোগে মাটি ও বালু খেকোরা উপজেলার হরিতলা, মিরপুর এলাকা, নতুন বাজার, মহাশয়ের বাজার লামাতাসী, দক্ষিণ হিলালপুর, ফতেহপুর, শেওড়াতুলী, উত্তরসূর, পুরান মৌড়ি, শংকরপুর ও কালাখারৈলসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন।  স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগে প্রভাবশালী একটি চক্রটি বেপরোয়াভাবে ফসলি জমি, টিলা ও সরকারি খাস জমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে লুটে নিচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাত ১০টার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত কৃষি জমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক-ট্রাক্টরে ভরে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। এতে কৃষি জমির টপ সয়েল তুলে নেওয়ায় উর্বরা শক্তি বিনষ্টসহ পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি রাতেই যন্ত্রদানবের বিকট শব্দে এলাকার মানুষ নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারছেন না। বিশেষ করে দুই তিন ধরে মাটি ও বালুবাহী যন্ত্রদানবের তান্ডব রাতে বাহুবলের নিস্তব্ধতা ভেঙে পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। এনিয়ে বাহুবলের অনেক সচেতন নাগরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরছেন। কৃষি ও পরিবেশ বিপর্যয়কারী অশুভ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করছেন। 

কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,  ড্রামট্রাক ও ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে গ্রামের কাঁচা ও পাকা সড়ক ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইটের সলিং উঠে গেছে, আবার অনেক স্থানে সড়কের পাশ ধসে পড়ছে। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবাদে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের ফলে এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমির উর্বরতা এবং হুমকির মুখে পড়ছে বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। এক কথায় এটি বড় ধরনের ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।



শেয়ার করুন