হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী জানান, চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন দিলেও হাসপাতালের ফার্মেসিতে গিয়ে তারা প্রয়োজনীয় ওষুধ পান না। বাধ্য হয়ে তাদের নিকটস্থ ফার্মেসি থেকে টাকা খরচ করে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
বাহুবল উপজেলার এক রোগী বলেন, “সরকারি হাসপাতালে এসেছি বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধের আশায়। কিন্তু এখানে এসে দেখা যায় বেশিরভাগ ওষুধই নেই। বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।” আরেকজন রোগীর স্বজন বলেন,“দরিদ্র মানুষ সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এখানে যদি ওষুধই না পাওয়া যায়, তাহলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এর আগেও জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে এই হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক ও ওষুধ সংকটের কারণে অনেক সময় রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকলে পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে। এতে করে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা ফার্মেসির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা আরও সংকটের মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ওষুধের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ পাওয়া গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
