হবিগঞ্জ জেলার মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী ও সাধারণ জনগনের কিছু দাবী দাওয়া উত্তাপন করেছেন। বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার বিখ্যাত শহীদ মুক্তিযুদ্ধা জগৎজিত দাসকে মুক্তিযুদ্ধের পর কোনো এক অজানা কারনে বীরশ্রেষ্ঠ পদক এর পরিবর্তে বীর বিক্রম পদক দেওয়া হয়। যা জগৎজিত দাস এর বীরত্বকে ছোট করে দেখা এবং অন্যায় হয়েছে বলে মুক্তিযুদ্ধাকালীন লেখক দেওয়ান কাইউম ও মুক্তিযুদ্ধারা মত প্রকাশ করেন।স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর বীর মুক্তিযুদ্ধা জগৎজিত দাসকে তার প্রাপ্য প্রধান পদক বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার কে গেজেট প্রকাশ করার জন্য বিনীত অনুরুদ জানানো হচ্ছে। হবিগঞ্জ এর আউশপাড়ার আরেক জন বীরমুক্তিযুদ্ধা নির্ভিক ত্যাগী সৈনিক সৈয়দ সিরাজুল আব্দাল এর স্মৃতি স্বরণে সায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্ট থেকে হবিগঞ্জ সদর পর্যন্ত রাস্তাটি শহীদ বীর মুক্তিযুদ্ধা সৈয়দ সিরাজুল আব্দাল এর নামে নামকরণ করতে মুক্তিযুদ্ধা ও লেখকের পক্ষ থেকে দাবী জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, মুক্তিযুদ্ধাকালীন সৈয়দ সিরাজুল আব্দাল সিলেটের লাক্কাতোরা চা বাগানের ব্যবস্তাপক থাকাকালীন চা শ্রমিক ও কৃষক শ্রমিকদের নিয়ে সিলেট নগরীতে প্রবেশে পাক-বাহিনীকে বাধা প্রধান প্রতিরোধ গড়ে তুলেন।এবং একটি প্রতিরোধ বাহিনী গঠন করেন। ২৬ মার্চ রাত্রীতে পাক-বাহিনী লাক্কাতুরা চা বাগানে প্রবেশ করে সৈয়দ সিরাজুল আব্দালকে ধরে নিয়ে যায় এবং সিলেট কারাগারে হস্থান্তর করে।সিলেট নগরী মুক্তিযুদ্ধাদের দখলে আসলে সিলেটের কারাগার খুলে দেওয়া হয়।বীর মুক্তিযাদ্ধা সৈয়দ সিরাজুল আব্দাল কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে হবিগঞ্জ এর তেলিয়াপাড়ায় ১৯৭১ সালের ৪ঠা এপ্রিল বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডারদের সাথে মিলিত হন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনাদের কে অভিলম্বে একটি বিগ্রেড গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য পরামর্শ দেন।এমনকি আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দদেরকে ভারতের সাহায্য নিয়ে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করার জন্য পরামর্শ দেন। এই নির্ভিক সেনানী কে ভারতের চব্বিশ পরগনার কৈল্যানী নামক স্থানে সর্বশেষ দেখা যায়। লেখক দেওয়ান কাইউমের মতে কিছু মোনাফিক দেশিও বিশ্বাস ঘাতকদের কারণে এবং পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের ষড়যন্ত্রে তিনি আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং কুলাউড়া থানার পাল্লাকান্দি নামক স্থানে পাকবাহিনী হাতে গ্রেপ্তার হোন। সিলেট শহরের নিকটবর্তী চালটিঠিকর বিমান বন্দরের পাশে রেসিডিয়ানসিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজে অন্যান্য বন্দীদের সাথে তাহাকেও আটক করে রাখা হয়। সেখানেই পাক-বাহিনীর হাতে নিহত হন । এই বীর সেনানী সৈয়দ সিরাজুল আব্দাল লেখক দেওয়ান কাইউম সাহেবের সর্ম্পকে চাচা হন। এভাবেই অনেকেই দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন। তাদের মধ্যে, হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত সেক্টর কমান্ডার ৪নং সেক্টর। দেওয়ান মাহবুবুর রব সাদী ৪নং সেক্টরের জালালপুর সাব সেক্টর প্রধান, নবীগঞ্জের কৃতি সন্তান বাবু বিধু ভূষন রায় সহ আরো অনেকে। লেখক দেওয়ান কাইউম তাহাদের ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান স্বরুপ বিভিন্ন রাস্তা, প্রতিষ্ঠান, স্থাপনাগুলো তাহাদের নামে নাম করণ করতে দাবী জানান। চুনারুঘাট উপজেলায় জন্মগ্রহন কারী জনাব এনামুল হক মস্তুফা শহীদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বিভিন্ন স্থাপনায় তাহার নামে নাম করনে দাবী জানানো হয়েছে।আলোচ্য এই স্বাধীনতার ইতিহাসের আলোকে লেখক দেওয়ান কাইউম সাহেবের মুক্তিযুদ্ধকালীন কিছু বক্তব্য তুলে ধরতে চাই। তিনির অজান্তে কম বয়সে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সারা বাংলাদেশে ভ্রমন করেন। তিনি হবিগঞ্জ থেকে কুমিল্লা হয়ে ঢাকা যাতায়াত করতেন। যাতায়াত কালে একটি বাসে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে পাকবাহিনী কর্তৃক ধৃত হন। লেখক দেওয়ান কাইউম সাহেবকে গুলি করে হত্যা করার পূর্বমুহুর্তে বাসের ড্রাইবারের উপস্থিত বুদ্ধির কারনে এযাত্রায় বেঁচে যান। ড্রাইভার তাদের বাসের নির্ধারিত নীল পোষাক দেওয়ান কাইউম কে পরিয়ে পাক-বাহিনীর কাছে বলেন, এই লোকটি আমার বাসের একজন সহকারী। পাক-বাহিনী আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে যায়।আর সেজন্যই লেখক দেওয়ান কাইউম বিপদমুক্ত হন। এভাবেই মুক্তিযুদ্ধকালীন অনেক ঘটনায় লেখক দেওয়ান কাইউম সাহেবের মনে দেশের জন্য প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের স্পৃহা তৈরী হয়। লেখক তাহার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপদ রাখার জন্য তাদেরকে নিয়ে হবিগঞ্জ থেকে কুমিল্লা হয়ে ঢাকায় চলে আসেন। দাউদকান্দির ইলিটগঞ্জে বাসের উক্ত ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা ভয় পেয়ে যায়। আর সেজন্যই পরিবারের সদস্যদের কে নিরাপদ রাখার জন্য করাচি হয়ে লন্ডনে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বিধিবাম, ঐ সময় পরিস্থিতি অনুকুলে ছিল না বিধায় অনেক চেষ্টা করেও ভিসা পাননি। লেখক পরিকল্পনার আরেকটি পাঠ ছিল করাচি থেকে পরিবারের সদস্যদের লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়ে তিনি চলে যাবেন রাওয়াল পিন্ডি। কারণ সেখানে একটি জলসার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই জলসায় প্রধান অথিতি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন তখনকার সময়ে পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ এহিয়া খান। সেখানে আমন্ত্রন পান বাংলাদেশের বিখ্যাত কন্ঠ শিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লা এবং তাহার ভাই বাংলাদেশ চলচিত্রের নায়ক জাফর ইকবাল । লেখক তাদের সাথে বৈটকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন যে, রাওয়ালপিন্ডির সেই জলসায় দেওয়ান কাইউমকে অংশগ্রহনের জন্য সহযোগিতা করবেন। কন্ঠ শিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লার স্বামী মেজর রহমত উল্লা ছিরেন সেই জলসার নিরাপত্তার দায়িত্বে। শাহনাজ রহমত উল্লা তাহার স্বামী মেজর রহমত উল্লাকে ম্যানেজ করে দেওয়ান কাইউমকে উক্ত জলসায় অংশগ্রহন করাবেন সেখানে জাফর ইকবাল একটি গন্ডগোল পাকাবেন এবং সেই সুযোগে লেখক দেওয়ান কাইউম প্রেসিডেন্ড ইয়াহিয়া খানের উপর অতর্কিত হামলা করবেন। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে সব পরিকল্পনা বেস্তে যায়। এভাবে বহুল ঘটনার মাধ্যমে দেওয়ান কাইয়ূম মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য অবদান রেখেছিলেন।
লেখক দেওয়ান কাইউম সাহেবের মা সৈয়দা সুরাইয়া খাতুন এবং দুই বোন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অনেক সহযোগিতা করেছিলেন। ওনার মা সৈয়দা সুরাইয়া খাতুন মৃত্যুর পর হবিগঞ্জ জেলার চন্দ্রছড়ি সাহেবের বাড়িতে সমাহিত করা হয়। এবং ওনার ছোট বোন দেওয়ান রাবিয়া চৌধুরীর মৃত্যুর পর ইংল্যান্ডের লেষ্টার শহরে সমাহিত করা হয়। ওনার বোন দেওয়ান রেখা চৌধুরী এখনও বেঁচে আছেন।
সূত্র: লেখক দেওয়ান কাইউম রচিত ইমার্জেন্স অব বাংলাদেশ ও করাপ্ট জেনারেলস্ বাংলাদেশ পলিটিকস নামক গ্রন্ত্র থেকে
সংগ্রহিত : ফজলুল হক
চেয়ারম্যান, স্বাধীনতা ফাউন্ডেশন।
খবর বিভাগঃ
সমগ্র
