মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শহরবাসী ॥ নিধনে নেই কার্যক্রম ॥ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

হবিগঞ্জ শহরে দিন দিন বেড়েই চলেছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা নামলেই শহরের অলিগলি, বাসাবাড়ি ও বাজার এলাকায় মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে মশা নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে নগরবাসীর মধ্যে। দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করে নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই মশার উৎপাত অসহনীয় হয়ে ওঠে। বাসাবাড়ির ভেতরেও স্বস্তি নেই। অনেকেই বাধ্য হয়ে মশারি, কয়েল কিংবা স্প্রে ব্যবহার করছেন। তবুও পুরোপুরি রেহাই মিলছে না মশার আক্রমণ থেকে। শহরের শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “সন্ধ্যার পর ঘরের দরজা-জানালা খোলা রাখা যায় না। মশার কামড়ে বসে থাকা দায় হয়ে যায়। আগে মাঝে মাঝে মশা মারার ওষুধ ছিটাতে দেখতাম, এখন অনেকদিন ধরে সেটাও দেখা যায় না।”

কালীবাড়ি সড়কের ব্যবসায়ী সোহেল আহমদ জানান, বাজার এলাকায় সন্ধ্যার পর মশার কারণে ক্রেতারা বেশিক্ষণ থাকতে চান না। এতে ব্যবসায়ও প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, “মশার কারণে দোকানে বসে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত।”

শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষের অভিযোগ, মশা নিধনের জন্য পৌরসভা থেকে নিয়মিত কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। ফলে ড্রেন, নর্দমা ও জলাবদ্ধ স্থানে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

স্বাস্থ্য সচেতন মহলের মতে, মশার উপদ্রব বাড়লে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম পরিচালনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

শহরবাসীর দাবি, দ্রুত মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে নিয়মিত ফগিং মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানো, ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের আশা, নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



শেয়ার করুন