সরেজমিনে দেখা গেছে, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাঁদায় পরিণত হয় এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অনেক অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বই-খাতা নিয়ে কাঁদা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। আলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা, জহুর চান মহিলা কলেজ ও শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই রাস্তা। কিন্তু বর্তমান অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলেও লেঞ্জাপাড়ায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
একজন কৃষক বলেন, “আমাদের এলাকা কৃষিনির্ভর। কিন্তু রাস্তার কারণে সময়মতো সার, বীজ ও কীটনাশক আনা যায় না। উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষা, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন বাড়ছে।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক নাহিদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“উক্ত সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমাদের জানা আছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” এদিকে, এলাকাবাসী দ্রুত এই কাঁচা রাস্তা সংস্কার ও পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
