এর মধ্যে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বেড়ে বানিয়াচং উপজেলায় ২১৮ হেক্টর, আজমিরীগঞ্জে ১৮, নবীগঞ্জে ২০ ও লাখাই উপজেলায় ২৫ হেক্টরসহ মোট ২৮১ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০৫ মেট্রিক টন ধানের ক্ষতি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত বোরো ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ হয়নি। অন্যান্য বছরের মতো প্রতি কেজি ৩০ টাকা ধরে জেলার লক্ষ্যমাত্রার ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধানের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।
এদিকে জেলার মোট আবাদ করা জমির বড় একটি অংশ হাওরের নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত। বৃষ্টির পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি জমি তলিয়েছে বানিয়াচং উপজেলায়। এর মধ্যে উগলী হাওরের বর্গাচাষি সিজিল মিয়ার ৩০ বিঘা, উজ্জ্বল মিয়ার ৩৫ বিঘা, সাজিদ মিয়ার ১০ বিঘা, আকল মিয়ার ১২০ বিঘা, আদম আলীর ১০ বিঘা ও আওয়াল মিয়ার ৫ বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এক কৃষক জানান প্রায় ৯০ হাজার টাকা লগ্নি করে তিনি জমিগুলো আবাদ করেছিলেন। সেখান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। জমির সব ধান তলিয়ে যাওয়ায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
আওয়াল মিয়া বলেন, আগের বছরের ৫০ হাজার টাকার ঋণের সঙ্গে এবার আরও ৫০ হাজার টাকা যোগ হয়েছে। মোট দেনা দাঁড়িয়েছে এক লাখ টাকা। ফসল বিক্রি করে ঋণ শোধের কথা থাকলেও জমি তলিয়ে যাওয়ায় তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাওনাদারের চাপের চিন্তায় রাতে তার ঘুম হচ্ছে না।
উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের বাগাহাতা ও চেপ্টির হাওরের নিম্নাঞ্চলে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে চারটি সেচযন্ত্র বসিয়েছেন। দিন-রাত মেশিন চালিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা চলছে। বৃষ্টি না হওয়ার জন্য গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মোনাজাতও করেছেন তারা।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার আবাদ করা মোট জমির ৩৮ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৬ হাজার ৯৫৪ হেক্টর হাওরের নিম্নাঞ্চলে। এসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পাকার পরই কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিচু জমির কিছু অংশে গত ৫ এপ্রিল থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কর্তনের হার শূন্য দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। আগামী ২৭ মে’র মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। নদ-নদীর পানি এখনো আশঙ্কাজনক হারে বাড়েনি। বৃষ্টিপাত বেশি না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ সীমিত থাকতে পারে। হাওরের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
