জলসুখার ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি ঘেটু নাট মন্দির অযত্নে ধ্বংসের মুখে

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামে অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছর পুরনো ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে এসব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, দেখার যেন কেউ নেই। কুশিয়ারা নদীর তীরে অবস্থিত এ এলাকায় একসময় ১৪টি জমিদার বাড়ি (১৩টি হিন্দু ও ১টি মুসলিম) গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে এসব স্থাপনার অধিকাংশই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে অনেক স্থাপনা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সংরক্ষণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় জমিদার বাড়িগুলোর ভেতরের কাঠামো, পাটাতনের কাঠ ও আসবাবপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ঝড়-তুফানের কারণে ঐতিহাসিক ‘আটচালা’ বৈঠকখানার ছাদ ভেঙে পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর অধিকাংশ জমিদার ভারতে চলে গেলে এসব বাড়ি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখল এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্থাপনাগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ে। বর্তমানে ভাঙা ইমারত, শানবাঁধানো দিঘির ঘাট এবং জরাজীর্ণ মন্দিরগুলোই কেবল অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে।

হাওরবেষ্টিত এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করা গেলে তা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে স্থানগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জলসুখা ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. রাসেল মিয়া জানান, আড়াইশ বছর পুরনো এই জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে। ঝড়-তুফানে বৈঠকখানার ছাদ ভেঙে পড়েছে। তিনি আরও জানান, জমিদার বাড়িটি তহসিল অফিসের তত্ত্বাবধানে থাকলেও সংস্কারের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।



শেয়ার করুন