বানিয়াচংয়ে হাওরে পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তা আকস্মিক বন্যা-শিলাবৃষ্টির শঙ্কায় কৃষকরা

স্টাফ রিপোর্টার : বানিয়াচং উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে সোনালি ধানে ভরে উঠেছে মাঠ। কিন্তু এমন সময়, যখন কৃষকের মুখে থাকার কথা স্বস্তির হাসি, তখনই তাদের মনে ভর করেছে অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক। কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় ধান ঘরে তোলার আগেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। গত কয়েকদিন ধরে আকাশে মেঘের আনাগোনা, গুমোট আবহাওয়া ও মাঝেমধ্যে শিলাবৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের প্রধান ভয়—ধান কাটার শেষ সময়ে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে, তবে বছরের সব পরিশ্রম এক মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, জ্বালানি ও শ্রমিকের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা হতাশ। এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচই ওঠানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।” এ অবস্থায় দ্রুত ধান কাটার তাগিদ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিক সংকট ও যন্ত্রের স্বল্পতা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে সময়মতো ফসল ঘরে তোলা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, সরকার যেন সরাসরি তাদের কাছ থেকে সহজ প্রক্রিয়ায় ধান ক্রয় করে এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে তারা ন্যায্য মূল্য পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, হাওরের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে। সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠে কম্বাইন হারভেস্টারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, যাতে স্বল্প সময়ে বেশি পরিমাণ ধান কাটা সম্ভব হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হলে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন। হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা মূলত এই এক ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রাকৃতিক ঝুঁকি ও বাজারের অস্থিরতার মধ্যে পড়ে কৃষকদের টিকে থাকা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে সংশ্লিষ্টদের কাছে।


শেয়ার করুন