উপজেলার কাকাইলছেও চিলার আগ বিল, আনন্দপুরের মাকরদী ও কমলগঞ্জের চরের বিস্তীর্ণ বোরোধানের জমিতে জোঁকের ব্যাপক উপদ্রব দেখা দিয়েছে। জমিতে নামলেই কৃষকদের শরীরে জোঁক লেগে যাচ্ছে। এতে অনেকেই ভয়ে পানিতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। আবার অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জোঁকের কামড় সহ্য করেই ধান কাটছেন। কেউ কেউ শরীরে মোটা কাপড় ও প্যান্ট বেঁধে মাঠে নামছেন।
কৃষকদের দাবি, চলতি মৌসুমে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় হাওরের পানিতে জোঁকের পরিমাণ বেড়েছে। পানিতে দীর্ঘসময় অবস্থানের কারণে শ্রমিকরাও কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
এদিকে হাওরাঞ্চলে ধান কাটার শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েক বছর আগেও পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মৌসুমি শ্রমিকরা ধান কাটতে এ এলাকায় আসতেন। তবে বর্তমানে তারা নিজ এলাকায় কাজ পাচ্ছেন বা শহরমুখী হওয়ায় হাওরে আসছেন না।
স্থানীয়ভাবে যে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তাদের মজুরি তুলনামূলক বেশি। উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আসিফ ইকবাল জানান, প্রতি ‘কের’ (২৮ শতাংশ) জমিতে ধান কাটতে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। তবে জমির অবস্থাভেদে কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকাতেও কাজ হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের লাভের সম্ভাবনা কমে গেছে।
অন্যদিকে, ধান কাটার হারভেস্টার মেশিনও এ বছর তেমন কাজে লাগছে না। জমিতে অতিরিক্ত পানি থাকায় মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। নৌকার স্বল্পতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাকরদী হাওর ও রনিয়ার গ্রামের আশপাশের কিছু বোরো জমিতে ধানের পাতা ঝলসে গেছে। একই চিত্র পিরুজপুর-বদলপুর সড়কের পাশের জমিগুলোতেও দেখা গেছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে হাওরের পানি ক্রমাগত বাড়ছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে ফসলহানির আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহুল আমিন জানান, চলতি বছর আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২৯ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, হাওরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা ও শ্রম সংকটের কারণে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।
