দেয়ালের বড় বড় ফাটল, ভেঙে পড়া অংশ, ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়ে প্লাস্টার খসে পড়া, সব মিলিয়ে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবুও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াশরুম ব্যবহার করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা।
জানা গেছে, চঊউচ-৩ প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (উচঐঊ) ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিদ্যালয়টিতে ওয়াশরুমটি নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মাথায়, ২০১৮ সাল থেকেই ওয়াশরুমটির ছাদ ও দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করে। বর্তমানে এর অবস্থা এতটাই নাজুক যে, সামান্য ঝাঁকুনিতেও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কয়েক দফা পরিদর্শনে এলেও এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। ফলে বাধ্য হয়েই ঝুঁকির মধ্য দিয়ে ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই ওয়াশরুমে যেতে হয়। বিশেষ করে ছোট শিশু শিক্ষার্থীরা সবসময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত পুরাতন ওয়াশরুমটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ না করলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিকাশ দেব বলেন, “ওয়াশরুমের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কয়েকবার পরিদর্শন করা হলেও এখনও নতুন ওয়াশরুম নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহার করছেন।” তিনি আরও বলেন, “দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ওয়াশরুম নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।” বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নতুন ওয়াশরুম নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
