ঋণের চাপ ও সংসারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধান বিক্রি করে সন্তানদের ঈদের কাপড় কিনবেন, ঘরে উৎসব হবে এমন স্বপ্ন ছিল। এখন সেই আনন্দ তো দূরের কথা, পরিবার নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে, সেটিই বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু আব্দুল জলিল নন, হাওরাঞ্চলের অসংখ্য কৃষকের একই অবস্থা। উৎসবের আগমুহূর্তে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরো জনপদজুড়ে সৃষ্টি করেছে হতাশার আবহ। যেখানে থাকার কথা ছিল ঈদের আনন্দ, সেখানে এখন কৃষকদের কণ্ঠে শুধুই দীর্ঘশ্বাস।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এর মধ্যে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করলেও এখন তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জরুরি সরকারি সহায়তা এবং কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ। তা না হলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, পানিতে ডুবে থাকা ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক কৃষক বুকসমান পানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই ধান গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার উপযোগী থাকছে না।
সদর ইউনিয়নের কৃষক উছমান মিয়া প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ২০ বিঘা ধান কাটতে পারলেও বাকি ১৩০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারেননি তিনি।
একই ধরনের দুর্ভোগে পড়েছেন শিবপাশা ইউনিয়ন-এর কৃষক কাউছার মিয়া ও কাকাইলছেও ইউনিয়ন-এর কৃষক লুৎফর রহমান। লুৎফর রহমান বলেন, পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে কিছু ধান কাটলেও তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য সংকট নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, উপজেলার হাওর এলাকায় প্রায় ৭২ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় ৩৮ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় মোট ৫৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এছাড়া সরকারি মূল্যে ধান সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার প্রায় ৫ হাজার কৃষকের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ৪৭৭ জন কৃষককে নির্বাচন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রেজাউল করিম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। তিনটি ক্যাটাগরিতে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে এবং সরকারি বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হবে।
