হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নে ফেসবুকে স্ট্যাটার্সকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ইমতিয়াজ আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধ চিকিৎসা শেষে বাড়িতে এসে মারা গেছেন। এ ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য দুই আওয়ামী লীগ নেতা ধামাচাপার চেষ্টা চালিয়েছে। অবশেষে প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করেছে। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জেলা জুড়ে তোলপাড় চলছে। নিহত ব্যক্তি ইউনিয়নের ডেমিকান্দি গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মিয়ার পুত্র। গত শনিবার দিবাগত রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর ফেসবুক স্ট্যাটার্সকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে চানপুর গ্রামের আব্বাস মিয়ার পুত্র হাকিম মিয়া, টেনু মিয়ার পুত্র হান্নান মিয়া, আদু মিয়ার পুত্র হাবিবুর রহমান, সাদেক মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ইমতিয়াজ আলীকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তার মাথায় ২৬টি সেলাই দেয়া হয় এবং হাতে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ গুরুতর জখম হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়িতে আসেন। এ ঘটনায় ওই গ্রামের মেম্বার আজিজুর রহমান সওদাগর বাদি হয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ এনে মামলা করেন। এদিকে ইমতিয়াজ আলীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। অবশেষে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা কাপ্তান সারোয়ার ও এনামুল হক সারোয়ার বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা করেন। এমনকি লাশ নিতেও বাঁধা দেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ এ দুই আওয়ামী লীগ নেতা প্রশাসনকেও ম্যানেজ করে ফেলে। এক পর্যায়ে নিরীহ পরিবার বিনা ময়নাতদন্তে গতকাল রবিবার যোহরের নামাজের পর জোরে দাফন করা হয়। পরিবারের দাবি আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের প্রশ্নই উঠে না।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি আকবর হোসেন জানান, কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেননি। যদি কেউ অভিযোগ করে কিংবা মামলা করে তাহলে আইন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা হবে।
খবর বিভাগঃ
হবিগঞ্জ
