সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে অনেক স্থানে।
স্থানীয় এক টমটম চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালানো মানে নিজের গাড়ি নষ্ট করা। প্রতিদিনই কোনো না কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। আয় যা হয়, তার বেশিরভাগই মেরামতে চলে যায়। তবুও পেটের দায়ে চালাতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে কষ্ট হয় যখন রোগী নিয়ে যেতে হয়। এই ভাঙা-চোরা রাস্তায় রোগীরা প্রচণ্ড কষ্ট পায়। অনেক সময় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও সম্ভব হয় না।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাদের।
একজন অভিভাবক জানান, “আমাদের সন্তানরা প্রতিদিন এই কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যায়। অনেক সময় তারা পড়ে গিয়ে আহত হয়। বৃষ্টির দিনে তাদের স্কুলে পাঠাতেই ভয় লাগে।”
স্থানীয় কৃষকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। ফসল বাজারজাত করতে গিয়ে তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন না পাওয়ায় কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না, ফলে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত ও পুনঃসংস্কার করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে নজরাকান্দা, সৌলরী, কালনী পাড়া ও আলগা রনিয়া এলাকার জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, একটি অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের আংশিক পিচ উঠে গিয়ে দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে এই জনদুর্ভোগ লাঘব করা এখন সময়ের দাবি।
