জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জে বর্তমানে খামারির সংখ্যা ১ হাজার ৪৪০ জন। এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার ৫০টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ১৩৫টি পশু। ফলে চাহিদা পূরণের পরও উদ্বৃত্ত থাকবে ৪ হাজার ২৪৭টি পশু। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ৯৭২টি গরু, ১১ হাজার ১২৩টি ছাগল, ৪ হাজার ৫২৯টি ভেড়া ও ৬৫৮টি মহিষ।
হবিগঞ্জ সদরের তেঘড়িয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের তুহিন এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. তুহিন মিয়া জানান, ১ হাজার কেজি ওজনের একটি ষাঁড় লালন-পালনে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। বাজারে ন্যায্য দাম পেলে তিনি লাভের আশা করছেন।
আরেক খামারি জোবায়ের আহমেদ বলেন, অনেক কষ্ট করে গরু বড় করেছেন তারা। পশুখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেলেও এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন। বিদেশি গরু বাজারে না এলে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হবেন, না হলে খরচ তুলতেই কষ্ট হবে।
খামারিদের অভিযোগ, পশুখাদ্যের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, খামারিদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। হাটে যাতে অসুস্থ বা ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা পশু বিক্রি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোরবানির পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পশুর মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি চলছে এবং এ জন্য চারটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। হবিগঞ্জ জেলার ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত পথে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, কোরবানির হাটগুলোতে পোশাকধারী ও সাদাপোশাকে একাধিক টহল টিম মোতায়েন থাকবে। হাটের ভেতর ও আশপাশে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করতে পারেন। এছাড়া জাল টাকা প্রতিরোধেও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে বিশেষ টিম কাজ করবে এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
