২ মাস পর দেশে ফিরল প্রবাসী মানিক মিয়ার মরদেহ ॥ পরিবারে শোকের ছায়া

স্টাফ রিপোর্টার: বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ২ মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে দেশে ফিরল মাধবপুর উপজেলার প্রবাসী মো. মানিক মিয়া ওরফে জুয়েলের মরদেহ। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর আইনি জটিলতার কারণে মরদেহ দেশে আনতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তার পরিবারকে। মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম হরিতলা গ্রামের মরহুম ধনু মিয়ার বড় ছেলে মানিক মিয়া জীবিকার তাগিদে ২০২২ সালে আরব আমিরাতের শারজাহ শহরে পাড়ি জমান। দীর্ঘ ৪ বছর প্রবাস জীবন ভালোই কাটছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, গত ৪ মাস আগে তার বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর মাত্র ২ মাসের মাথায় এক দুর্ঘটনায় প্রবাসের মাটিতে মৃত্যুবরণ করেন মানিক মিয়া। মৃত্যুর ২ মাস পর গত সপ্তাহে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মানিক মিয়া বৈধ প্রক্রিয়া তথা ইগঊঞ এর মাধ্যমে ম্যানপাওয়ার না করে ভ্রমণ ভিসায় কম খরচে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। ফলে তিনি বৈধ জনশক্তি হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন না। এ কারণে মৃত্যুর পর সরকারি তহবিল থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়নি। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে কল্যাণ তহবিল রয়েছে, তা শুধুমাত্র বৈধভাবে ইগঊঞ এর মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। পরিবারের হাহাকার বর্তমানে মানিক মিয়ার পরিবারে রয়েছেন তার মমতাময়ী মা ও দুই ছোট ভাই-বোন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন প্রবাসী জুয়েল। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা ও সর্বশান্ত।

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রবাসে যেতে ইচ্ছুকদের প্রতি আহ্বান অনুমোদিত বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ম্যানপাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদেশে যান। বৈধভাবে গেলে দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে কল্যাণ তহবিল থেকে মোটা অংকের আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। যা মৃতের পরিবারকে কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। অবৈধ পথে গেলে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়, যার ভুক্তভোগী হয় পুরো পরিবার।


শেয়ার করুন