নবীগঞ্জে অফিস সহকারী দিয়ে পশু চিকিৎসা ॥ ঔষধে নেয়া হয় টাকা

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি ঔষধ ও ভ্যাকসিনের বিনিময়ে টাকা আদায়, অফিস সহকারী দিয়ে গবাদি পশুর চিকিৎসা করানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি ছুটির দিনেও হাসপাতালে অফিস সহকারী রঞ্জু দাশকে দিয়ে গরু-ছাগলের চিকিৎসা করানো হয়। রোগী এলে মোবাইল ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন তিনি। এ সময় সরকারি ভ্যাকসিন ও ঔষধ দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব টাকার নিয়ন্ত্রণ করেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিজেই। চরগাঁও গ্রামের আরজু মিয়া জানান, শুক্রবার অসুস্থ গরু নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসককে পাননি। পরে অফিস সহকারী ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ঔষধ লিখে দেন এবং একটি ইনজেকশনের জন্য ৫০০ টাকা দাবি করেন। এ বিষয়ে অফিস সহকারী রঞ্জু দাশ বলেন, “স্যার রোগী এলে দেখতে বলেছেন। তিনি ফোনে চিকিৎসা দেন, আমি শুধু ঔষধ লিখে দেই।” তবে সরকারি ভ্যাকসিন দিয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। এদিকে বিভিন্ন খামারি সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, সরকার থেকে সমিতির নামে বরাদ্দ এলেও তা সদস্যদের কাছে পৌঁছায় না। গুমগুমিয়া প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প সমিতির সদস্য শিপন মিয়া ও শান্তি বেগম জানান, প্রতি মাসে সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও সরকারি বরাদ্দের হিসাব তাদের পাশবইয়ে দেখানো হয় না। এছাড়া সমিতির নামে বরাদ্দকৃত চেয়ার সদস্যদের না দিয়ে উল্টো ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা। ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, সরকারি ভ্যাকসিন ও ঔষধ বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। কয়েকজন খামারি জানান, হাসপাতালে সরকারি ঔষধ না দিয়ে নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে বলা হয়। পরে তারা জানতে পারেন, ওই ভ্যাকসিন সরকারি সরবরাহের।

তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মানবিক কারণে বন্ধের দিনে অফিস সহকারীকে রোগী দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি ফোনে পরামর্শ দেই।” সরকারি ঔষধ বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন। এ বিষয়ে বিএস ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আশিকুর রহমান বলেন, “বন্ধের দিনে সহকারী দিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। সরকারি ঔষধ বিক্রির অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষ।”এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী খামারিরা।



শেয়ার করুন