সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রাইভার বাজার, দাউদনগর বাজার, রেলস্টেশন এলাকা, শানখলা রোড, পুরান বাজারসহ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে অসংখ্য অস্থায়ী ও স্থায়ী অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। অনেক ব্যবসায়ী দোকানের সামনে অতিরিক্ত জায়গা দখল করে পণ্যসামগ্রী সাজিয়ে রাখায় সড়কের প্রশস্ততা কমে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া পথচারীদের অনেক সময় বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল ও কলেজে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও প্রতিদিন নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সড়কের পাশে বসানো এসব অবৈধ দোকান ও স্থাপনা থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে একটি প্রভাবশালী মহল। দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে এসব দোকান ও স্থাপনার অনেকগুলোতেই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ দখলমুক্ত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের দাবি, কেবল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় সড়ক ও ফুটপাত দখল না হয় সেজন্য নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জনস্বার্থে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করা হলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
