সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, অফিসের ভেতরে কিংবা আশপাশে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী দালালচক্রের মাধ্যমে কাজ করালে দ্রুত সেবা পাওয়া যায়। আনসার সদস্য বা নির্দিষ্ট কয়েকটি ট্রাভেলস ও এজেন্সির মাধ্যমে পরিচয় বা সুপারিশ নিয়ে গেলে আবেদন গ্রহণ ও অন্যান্য কার্যক্রম সহজে সম্পন্ন হলেও সাধারণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নানা ধরনের আপত্তি তুলে আবেদন আটকে দেওয়া হয়। ফলে বৈধ প্রক্রিয়ায় সেবা নিতে আসা মানুষ বাধ্য হয়ে দালালদের শরণাপন্ন হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও নানা অজুহাতে তাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। কেউ কেউ একাধিকবার অফিসে আসার পরও কাঙ্খিত সেবা পাননি। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। অনেকের বিদেশযাত্রা ও জরুরি কাজও বিলম্বিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতীতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধান ও নজরদারি থাকাকালে অফিসের কার্যক্রমে অধিক শৃঙ্খলা ছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকে আবারও দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে।
এদিকে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও হয়রানির প্রতিবাদে সেবাপ্রত্যাশীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা পাসপোর্ট অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে এবং সরকারি সেবার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
