স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম গত ১৫ মার্চ মসজিদ ও সংলগ্ন হাফিজি মাদ্রাসাসহ আশপাশের প্রায় ২০০ গজ এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন। একই সঙ্গে মসজিদের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পবিত্র রমজান মাসে মসজিদে ইতেকাফরত ১৭ জন মুসল্লিকেও প্রশাসনের নির্দেশে মসজিদ ত্যাগ করতে হয়। এরপর থেকে মসজিদে নিয়মিত নামাজ ও জুমার জামাত বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি হাফিজি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাঠদানও স্থগিত রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে বিরোধের কোনো সক্রিয় পরিস্থিতি নেই। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ চান। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ বন্ধ থাকায় ধর্মীয় কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
এদিকে মসজিদ খুলে দেওয়ার দাবিতে স্থানীয় মুসল্লিদের পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধবপুর থানা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক করেন। সেখানে বাদী ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাদী ছোয়াব আলী বিবাদী পক্ষকে মসজিদ ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ২০ লাখ টাকা প্রদান করবেন। তবে এখনো ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধানও হয়নি। তাই আপাতত মসজিদের তালা খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
স্থানীয় কয়েকজন ইসলামি চিন্তাবিদ বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে মসজিদ বন্ধ থাকায় সাধারণ মুসল্লিরা ধর্মীয় অনুশীলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টির দ্রুত সমাধান করে ধর্মীয় কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী মসজিদের তালা কয়েকবার খোলা অবস্থায় দেখা গেলেও প্রশাসনিকভাবে এখনো মসজিদ ব্যবহারের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে।
