লাইসেন্স বাতিলের পরও কার্যক্রম ॥ বকেয়া না দেওয়ায় নিশান এনজিও অফিসে তালা

মাধবপুর উপজেলার মনতলা বাজারের গঙ্গানগর এলাকায় ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পরিশোধ না করায় নিশান এনজিওর একটি বাসা-অফিসে তালা দিয়েছেন বাড়ির মালিক বেলাল মিয়া। জানা যায়, প্রায় দেড় বছর ধরে অফিসটির ভাড়া বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ১৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও বকেয়া পরিশোধ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি অফিসে তালা দেন। এতে ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আটকা পড়ে আছে। এদিকে, নিশান এনজিওর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মকর্তা বর্তমানে পলাতক এবং তাদের এমআরএ লাইসেন্স সরকার বাতিল করেছে। তবে লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও মনতলা এলাকায় অবৈধভাবে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে তারা। এতে নতুন করে প্রতারণার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাড়ির মালিক বেলাল মিয়া বলেন, “বিশ্বাস করে অফিস ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি রাখেনি। দ্রুত আমার বকেয়া পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।” অন্যদিকে, অফিসের এক কর্মচারী বলেন, “আমরা তাদের কাছে ঋণগ্রস্ত নই, বরং তাদের কাছেই আমাদের কিছু পাওনা রয়েছে।” স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি নিজেও ক্ষতিগ্রস্তদের একজন। শত শত গ্রাহকের টাকা তারা আত্মসাৎ করেছে। নিশান এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার জামাল মিয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে এলাকায় জমি-জমা কিনেছে। দ্রুত দুদকের তদন্ত হওয়া জরুরি।” এ বিষয়ে নিশান এনজিওর মালিক জালাল উদ্দিন রুমি বলেন, মনতলা এলাকায় এ ধরনের বকেয়া ছিল তার জানা ছিল না। তবে কবে তা পরিশোধ করা হবে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে তাদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন


শেয়ার করুন