শায়েস্তাগঞ্জে অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে বধ্যভূমি ॥ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

শায়েস্তাগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র দাউদনগর রেল গেইটের ঐতিহ্যবাহী বধ্যভূমিটি অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে। প্রতিদিনই সেখানে ময়লা আর্বজনার স্তুপ ফেলে রাখা হয়। পাশাপাশি ট্রেন ও সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী এবং পাশে থাকা বস্তিবাসী আসা যাওয়ার পথে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করেন। এমনকি গরু ছাগলও ছড়ানো হয়। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে এ বধ্যভূমি। কেবল একটি সাইনবোর্ড বসানো বধ্যভূমিতে। তবে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এ বধ্যভূমি চিহ্নিতকরণসহ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজ, শায়েস্তাগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের স্বজনরা। জানা যায়, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার এক শোকাবহ স্মৃতিচিহ্ন অঙ্কিত হয়ে আছে উপজেলার রেল জংশনের পাশের এ বধ্যভূমিতে। এখানে পাকবাহিনী লালচান্দ চা-বাগানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১১ জনকে হত্যা করে গণকবর দেয়। এরা হলেন- রাজকুমার গোয়ালা, লাল সাধু, কৃষ্ণ বাউরী মেম্বার, দিপক বাউরী, মহাদেব বাউরী, অনু মিয়া, সুনীল বাউরী, নেপু বাউরী, রাজেন্দ্র রায়, গৌর রায় ও ভুবন বাউরী। এর মধ্যে শুধু অনু মিয়াই মুসলিম ধর্মের ছিলেন। শহীদ সবাই চুনারুঘাট উপজেলার লালচান্দ চা বাগানের বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এ শহীদদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া বাঙালি জাতির দায়িত্ব ও কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। সে বিবেচনায় শায়েস্তাগঞ্জের এ বধ্যভূমি উপযুক্ত মর্যাদা ও সম্মান পাওয়া থেকে অনেকাংশেই বঞ্চিত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ বধ্যভূমি রেললাইন সংলগ্ন হওয়ায় রেললাইন অতিক্রম করা ছাড়া সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়ক থেকে বধ্যভূমিতে যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলেও ওই সড়কটি এখন সিএনজি অটোরিকশার দখলে আছে। পাশে রয়েছে বস্তি। এ সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচলের কোনো পরিবেশ নেই। এ বধ্যভূমি সংরক্ষণের জন্য তারকাঁটা দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছিল। যার অধিকাংশই ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, ফলে এখনো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বধ্যভূমি। বধ্যভূমির সীমানা চিহ্নিত হলেও এর পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা নিশ্চিত হয়নি এখনো। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।



শেয়ার করুন