এ বিষয়ে মনতলা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মিডওয়াইফ হেপি আক্তার জানান, “আমি পাঁচ বছর ধরে এখানে কর্মরত আছি। যোগদানের পর থেকে আজ পর্যন্ত এখানে কোনো মেডিকেল অফিসার পাইনি। একজন গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা পরামর্শ দেওয়ার সময় অন্য কক্ষগুলো ফাঁকা থাকে, ফলে অফিসিয়াল কাগজপত্র ও ওষুধের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় থাকতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ফার্মাসিস্ট না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওষুধ সংগ্রহ করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। লোকবল না থাকায় অনেক সময় আমার ভাইয়ের মাধ্যমে ওষুধ আনাতে হয়। আমি একজন নারী হিসেবে একা পুরো অফিস পরিচালনা করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, কারণ এখানে কোনো নিরাপত্তা কর্মীও নেই।”
জানতে চাইলে, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ডা. কর্মকর্তা ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, অবকাঠামোগত ভাবে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বর্তমানে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের অনুপযোগী। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পূনঃনির্মাণ না করা পর্যন্ত এখানে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা প্রায় অসম্ভব। তবে আশাব্যঞ্জক কথা হচ্ছে আমরা বিভিন্ন সময় প্রস্তাব প্রেরণের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক এই কেন্দ্রটি পূনঃনির্মাণের তালিকাভুক্ত হয়েছে। আশা করা যায় অচিরেই স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক পূনঃনির্মাণের কাজ শুরু হবে। তখন জনবল সহ অন্যান্য সরঞ্জাম প্রদান করা সম্ভব হবে। এবিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস বলেন, তিনি মনতলা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ভিজিট করেছিলেন। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির স্থাপনার অত্যন্ত দুরবস্থা ছিল । তিনি এই ব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে পত্র দেই। উনারা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পুণ: নির্মানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানে একজন মিডওয়াইফ পদায়িত রয়েছেন যার মাধ্যমে গর্ভবতী মহিলা রা সেবা পাচ্ছেন। ডাক্তার পদ এই মুহূর্তে শুণ্য রয়েছে। এজন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দ্রুত মনতলা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং চিকিৎসক পদায়ন না হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও অবনতির দিকে যাবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
