একই গ্রামের কৃষক নজরুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে নিজেদের পছন্দমতো তালিকা তৈরি করেছেন। আমার পাঁচ কেদার জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে দেখেও আমার নাম তালিকায় রাখেননি। অথচ যাদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
জলসুখা ইউনিয়নের মাধবপাশা গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, “ঋণ করে ১৫ থেকে ২০ কেদার জমিতে আবাদ করেছিলাম। সবই পানিতে তলিয়ে গেছে। কিন্তু অনুদানের তালিকায় আমার নাম নেই। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তারা সহায়তা পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।”
বদলপুর ইউনিয়নের নিজাম্মল সূত্রধর ও সুশীল চন্দ্র দাস জানান, তাদের চার থেকে ১০ কেদার জমির ফসল নষ্ট হলেও অনুদানের জন্য কোনো জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাদের তথ্য সংগ্রহ করেননি। অথচ অন্য অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও তথ্য নেওয়া হয়েছে।
একই ইউনিয়নের দিগলবাগ গ্রামের বর্গাচাষি সন্তোষ চন্দ্র দাস বলেন, “আমার ১০ কেদার জমি তলিয়ে গেছে। নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অনুদান পাইনি।”
ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেন, সঠিক জরিপ ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই তালিকা প্রস্তুত করায় সরকারের সহায়তা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে। তারা তালিকা পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনুদানের আওতায় আনার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, “উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম বলেন, “এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অনুদান বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করা না হলে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পাবে।
