স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবল স্রোতে রামগঙ্গা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ক্রমেই পর্যটন কেন্দ্রের মূল অংশের দিকে এগিয়ে আসছে। বর্তমানে নামফলক ও যাত্রী ছাউনির খুব কাছাকাছি পর্যন্ত মাটি সরে গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, আর মাত্র ৭ হাত জায়গা ভেঙে গেলেই ‘বিউটিফুল চুনারুঘাট’ নামফলক এবং একমাত্র যাত্রী ছাউনিটি নদীগর্ভে কিংবা গভীর খাদে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু একটি স্থাপনা নয়, চুনারুঘাটের পর্যটনের অন্যতম পরিচিত প্রতীকও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পর্যটনপ্রেমীদের কাছে ‘বিউটিফুল চুনারুঘাট’ নামফলকটি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা এখানে এসে ছবি তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করেন। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রামগঙ্গা পর্যটন কেন্দ্র ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, পর্যটকদের আগমনের কারণে এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু ভাঙন অব্যাহত থাকলে পর্যটন কেন্দ্রটির সৌন্দর্য ও অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতিতেও।
এ অবস্থায় ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও সচেতন মহল। তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ব্লক স্থাপন অথবা টেকসই সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা না হলে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধসে যেতে পারে।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। ভাঙনকবলিত এলাকাটি রক্ষায় অচিরেই প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা হবে।”
