হবিগঞ্জের শাহজীবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২২ সালের ২৯ মে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। চলতি বছরের মার্চ থেকে কেন্দ্রটি আংশিক উৎপাদনে ফিরলেও বর্তমানে এখান থেকে প্রায় ১৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে শাহজীবাজারের ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন কেন্দ্রটি প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া ৭০ মেগাওয়াটের শাহজীবাজার জিটি কেন্দ্র থেকে গড়ে ২৫-৩০ মেগাওয়াট এবং ৮৬ মেগাওয়াটের শাহজীবাজার কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ২৫ মেগাওয়াটের শাহজাহান উল্লাহ কেন্দ্র থেকেও মিলছে মাত্র ৮-১০ মেগাওয়াট।
সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে হবিগঞ্জের বিবিয়ানা এলাকায়। ৩৪১ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা কেন্দ্র থেকে গড়ে ৩০০ মেগাওয়াটের বেশি এবং ৪০০ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা-৩ কেন্দ্র থেকে ৩৮০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ৩৮৩ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা সাউথ কেন্দ্র থেকেও সন্তোষজনক উৎপাদন হচ্ছে।
অন্যদিকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১৬০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৮০ মেগাওয়াট। ১৬৩ মেগাওয়াটের কুশিয়ারা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ রয়েছে। সিলেটের ২৩১ মেগাওয়াটের কেন্দ্র থেকেও উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ১২০-১২৫ মেগাওয়াট। ২০ মেগাওয়াটের সিলেট জিটি কেন্দ্র থেকেও অনিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ মিলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের স্বল্পতা ও পুরোনো কেন্দ্রগুলোর যান্ত্রিক সক্ষমতা কমে যাওয়াই উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
এ বিষয়ে বিপিডিবি সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, বর্তমানে সিলেটে বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট নেই। সিলেট বিভাগের চার জেলায় পিডিবির গ্রাহকদের গড় চাহিদা প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে প্রায় ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
