চিকিৎসককে মারধর: হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে সেবা ব্যাহত

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাঈম আশরাফকে মারধরের অভিযোগে প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা বন্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনী ও সদর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুনরায় সেবা চালু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের এক রোগীর স্বজন জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাঈম আশরাফের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই স্বজন চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ঘটনার পর চিকিৎসক ও হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার জেরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সাময়িকভাবে সেবা প্রদান বন্ধ রাখেন। ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতসহ মুমূর্ষু রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকাকালে কয়েকজন রোগীকে ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়, যা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও সদর থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর রাতের দিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে যে কোনো সময় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে চিকিৎসক সমাজে ক্ষোভ বিরাজ করছে।


শেয়ার করুন