গাইনি ওয়ার্ড যেন ডাস্টবিন : সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের ভেতর ও বাইরে ময়লার স্তুপ পড়ে আছে। ব্যবহৃত গজ, ব্যান্ডেজ, স্যালাইনের খালি বোতলসহ বিভিন্ন চিকিৎসা বর্জ্য যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়। নির্ধারিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে পুরো এলাকা যেন এক প্রকার অস্থায়ী ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি এক প্রসূতি মায়ের স্বজন জানান, “এখানে আসার পর থেকেই দুর্গন্ধে টিকতে কষ্ট হচ্ছে। বাথরুম ব্যবহার করা যায় না, পানি নেই ঠিকমতো। এমন পরিবেশে মা ও নবজাতক কীভাবে সুস্থ থাকবে?”
বাথরুম ও পানির সংকট : ওয়ার্ডের বাথরুম ও বেসিনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ও অচল অবস্থায় পড়ে আছে। অধিকাংশ টয়লেটের দরজা নষ্ট, পানির কল ভাঙা, কোথাও আবার পানি সরবরাহই নেই। ফলে প্রসূতি মায়েদের বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই প্রয়োজন সারতে হচ্ছে। এতে সংক্রমণ ও অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অন্যান্য ওয়ার্ডেও একই চিত্র : শুধু গাইনি ওয়ার্ড নয়, হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডেও প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে এ ধরনের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রসূতি মা ও নবজাতকের মতো ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় মাতৃ ও নবজাতক মৃত্যুহার কমানোর জাতীয় প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন : হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। তারা দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার, বাথরুম ও বেসিন মেরামত এবং নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা। সচেতন নাগরিকদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
