সরকারি সার আটক হলেও জব্দ হয়নি, পরে পাঠানো হলো শাল্লায়

আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা এলাকা থেকে সরকারি সার সংগ্রহ করে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলায় সরবরাহের ঘটনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং প্রশাসনের উপস্থিতির পরও সার জব্দ না হওয়ায় এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আজমিরীগঞ্জের আমির এন্টারপ্রাইজ থেকে সংগৃহীত সার বস্তায় সরকার নির্ধারিত বিক্রয় মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য লেখা ছিল। গত ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার আজমিরীগঞ্জ লঞ্চঘাটে সারগুলো শাল্লা উপজেলায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় সাংবাদিকরা সারভর্তি বস্তাগুলো আটক করে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন,

“বস্তার ভেতরে কী ছিল, সেটা আপনারা কীভাবে বুঝলেন?”

অন্যদিকে, সার বহনকারী ক্রেতা সাংবাদিকদের জানান, তিনি সারগুলো আজমিরীগঞ্জের আমির এন্টারপ্রাইজ থেকেই কিনেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খবর দেওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অমরেন্দ্র চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা সার বস্তায় লেখা মূল্য, উৎস ও গন্তব্য পর্যবেক্ষণ করলেও কোনো ধরনের জব্দ, সিজার লিস্ট বা আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ না করেই কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর ওই সারগুলো ক্রেতার মাধ্যমে শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যেখানে কৃষকেরা সারের সংকটে ভুগছেন, সেখানে কীভাবে সরকারি সার অতিরিক্ত দামে বিক্রি হয়ে অন্য উপজেলায় চলে যায়? প্রশাসনের সামনে আটক হওয়ার পরও কেন সেগুলো জব্দ করা হলো না? প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই কি এমন অনিয়ম বারবার ঘটছে?

ঘটনাটি সরকারি সার বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কৃষি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন,

“আমি অফিসিয়াল কাজে বাইরে ছিলাম। ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছিলাম। সারের বিষয়টি পাওয়া গেছে, তবে সিজ করা হয়নি। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন