লাখাইয়ে দ্বিগুণ দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি

লাখাইয়ে দেখা দিয়েছে এলপিজির তীব্র সংকট। দুই-এক জায়গায় সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্যাস ব্যবহারকারীরা। সারাদেশের ন্যায় লাখাই উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা থাকার পরও বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না সিলিন্ডার। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা।

লাখাইয়ের ভাদিকারা গ্রামের বাসিন্দা আনু মিয়া। স্থানীয় কালাউক বাজারে তার একটি ছোট খাবারের হোটেল। গ্যাসেই চলে দোকানের সব কাজ। প্রতি মাসে ৮-১০টি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয়। এখন প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি খরচের কারণে খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না, ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।

খাবার দোকানদার মো. আনু মিয়া বলেন, ‘যে হারে গ্যাসের দাম বাড়ছে, এতে করে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। আর সরকারের কাছে আবেদন, গ্যাসের দামটা যেন একটু সহনীয় পর্যায়ে রাখে।’

আনু মিয়ার মতো মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ এলপিজি সংকটে রয়েছেন। দোকানে দোকানে ঘুরেও মিলছে না সিলিন্ডার। দ্রুত এ সংকট নিরসনের দাবি তাদের। টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি সিলিন্ডার। সারা দেশের ন্যায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভোক্তা পর্যায়ে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না কোম্পানিগুলো। এ সুযোগে ভোক্তাদের জিম্মি করে দ্বিগুণ দামে এলপিজি বিক্রি করছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে বাসাবাড়ি ও রেস্তোরাঁর এলপিজি ব্যবহারকারীরা।

ভোক্তাদের জিম্মি করে চড়া মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফোনে ১২ কেজি এলপিজির মূল্য ২২০০ টাকা বললেও সরাসরি সাংবাদিক কাছে আসলে এর মূল্য হয়ে যায় ১৫০০ টাকা। কেউ আবার বলছে সংকট।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে এলপিজির সংকট। বিভিন্ন বাজার ঘুরেও গ্যাস পাননি অনেকেই। জ্বলছে না চুলা, পড়ছেন অকূল পাথারে।

বিক্রেতারা জানান, ১৫০০ টাকায় এলপিজি বিক্রি করছেন তারা, তবে পাল্টা অভিযোগ ক্রেতাদের। ক্রেতারা জানান, ২২০০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে এলপিজি।

এদিকে সাধারণ মানুষরা জানান, দাম বাড়ার সঙ্গে কিন্তু আমাদের বেতন বাড়েনি। বর্তমানে বাজারে গ্যাস পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ডাবল দামে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

এদিকে ডিলাররা বলছেন, গত কয়েকদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানি থেকে গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না তারা। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে তৈরি হয়েছে এ কৃত্রিম সংকট। স্থানীয় গ্যাস ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাস সংকট যেন তাড়াতাড়ি সমাধান হয়। লাখাই উপজেলায় প্রতি মাসে গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা প্রায় ১০ হাজার। বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৫০ শতাংশ, দ্রুত সংকট কাটবে এমন আশাই করছেন।


শেয়ার করুন