নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৮৮ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আব্দুল মোছাব্বির এবং ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি এই আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও একই বছরের জুন নির্বাচন, ২০০১ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী টানা তিনবার জয় পান।
২০১০ সালে দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যু হলে ২০১১ সালের উপনির্বাচনে ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির এম এ মুনিম চৌধুরী, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বিজয়ী হন।
বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হলেও এবার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ শেখ সুজাত মিয়ার সক্রিয় প্রচারণায় সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত মিলছে। অন্য দলগুলোর প্রচারণা তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে।
প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, মরহুম অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নির্বাচিত হলে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, “বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে বলেই আমি জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। বড় নেতা হওয়ার জন্য নয়, নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষের একজন সেবক হয়ে কাজ করতেই রাজনীতিতে এসেছি। ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে চাই।”
এদিকে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী ও ১১ দলীয় জোট নেতা মওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরীও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি গ্রাম থেকে গ্রামে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চায়, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ চায়। জনগণ রিকশা মার্কায় ভোট দিলে নবীগঞ্জ-বাহুবলের উন্নয়নে কাজ করব এবং সব বরাদ্দ জনসমক্ষে প্রকাশ করব।”
অপরদিকে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ সুজাত মিয়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে সরব। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নিজস্ব সমর্থক নিয়ে ভোট সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
শেখ সুজাত মিয়া বলেন, “দলের দুর্দিনে কর্মীদের পাশে থেকেছি। ২০১১ সালের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পরাজিত করলেও আমাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। ইনশাআল্লাহ জনগণ ঘোড়া মার্কায় আমাকে নির্বাচিত করবেন।”
সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই সংসদীয় আসনে শেষ পর্যন্ত কার হাতে বিজয় যাবে—তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল ও আলোচনা।
