গুণই গ্রামে ফসলি জমির মাটি কর্তন, নষ্ট হচ্ছে সড়ক ॥ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

বানিয়াচং উপজেলার গুণই এলাকায় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ফসলি ও মালিকানাধীন জমির মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে দিনে-রাতে ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে একদিকে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে মাটি বোঝাই ট্রাক, ট্রাক্টর ও লরির অবাধ চলাচলে এলাকার গ্রামীণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস ধরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাটি গুণই এলাকার বিভিন্ন ফসলি জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জমিগুলো গভীর গর্তে পরিণত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এসব জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মৃত ইয়াউর মিয়া চৌধুরীর পুত্র জাকিনুর চৌধুরী, দেলোয়ার চৌধুরীর পুত্র কামরুল মিয়া চৌধুরী এবং আওয়াল মিয়া চৌধুরীর পুত্র খালেদ মিয়া চৌধুরীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। তাদের নেতৃত্বে একটি চক্র দিনের পাশাপাশি রাতেও ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও সেই আদেশ উপেক্ষা করেই প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে দিনের পর দিন কৃষিজমি ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এছাড়া মাটি বোঝাই ট্রাক, ট্রাক্টর ও লরি চলাচলের কারণে এলাকার গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। অনেক স্থানে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের জমির আশপাশে মাটি কাটার কারণে জমির কাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও জমি এত গভীরভাবে কাটা হয়েছে যে সেখানে পানি জমে ছোট ছোট পুকুরের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাশের জমিতেও চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে একসময় ওই এলাকার কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাইকোর্টে মামলা চলমান আছে। এ ছাড়া 

এ বিষয়ে একই গ্রামের মৃত ফিরোজ মিয়ার পুত্র আশরাফুল হক ইমন বানিয়াচং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ ছাড়াও গ্রামবাসী মাটিখেকোদের কাছ থেকে ফসলি রক্ষার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। নতুবা যে কোনো সময় সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে।



শেয়ার করুন