আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার জামিন শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিউল আলম আজাদ এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রহুল হাসান শরীফ নিজ নিজ পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিচারক নুরুল হকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের মহাশয়ের বাজার এলাকায় ‘দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা’ ও ‘মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’ নামে দুটি ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন নুরুল হক। অভিযোগ রয়েছে, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের তরুণীদের বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন কিংবা চাকরির টোপ দিয়ে তিনি অফিসে ডেকে আনতেন। এরপর শুরু হতো ব্ল্যাকমেইল ও পাশবিক নির্যাতন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চুনারুঘাট উপজেলার এক তরুণী নুরুল হকের প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে যৌন নির্যাতনের শিকার করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে ওই ভুক্তভোগীসহ একাধিক নারী বাহুবল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে র?্যাব-৯ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে নুরুল হককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মানবাধিকারের কথা বলে এলাকায় কথিত সালিশ-বিচার করতেন তিনি। সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোই ছিল তার প্রধান কৌশল।
এদিকে তার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন স্পর্শকাতর ছবি ও তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
