বক্তব্যে এমপি গউছ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিলেন এবং সেই সুযোগে তিনি গতকাল জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
বক্তব্যে তিনি তার নির্বাচনী এলাকা হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাইয়ের প্রায় সোয়া চার লাখ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও বিভ্রান্তির মধ্যেও ভোটাররা তাকে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে তাকে মহান জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় তিনি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এমপি গউছ বলেন, এর আগে তিনি তিনবার পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। বিভিন্ন সময় কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাকে রাজনীতি করতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে এবং একবার সিলেট কারাগারে বন্দী থাকাকালেও তাকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, সেই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি নৌকা প্রতীককে সাড়ে তিন হাজার ভোটে পরাজিত করে টানা তৃতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন।
এছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ওই নির্বাচনে তিনি প্রায় ৭০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তবে নির্বাচনের পর ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে সিলেট বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন এমপি গউছ। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগে প্রায় সোয়া কোটি মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু ঢাকা–সিলেট সড়কপথে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তিনি বলেন, সিলেট থেকে ঢাকায় সড়কপথে আসতে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। তাই ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানান তিনি। এতে সিলেট অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি রেল যোগাযোগের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সড়কপথের পাশাপাশি ট্রেন যাত্রাও অনেক কষ্টকর। তাই ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকারের দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে হবিগঞ্জে ঘোষিত মেডিকেল কলেজ প্রকল্পের অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এমপি গউছ। তিনি বলেন, ২০২০ সালে হবিগঞ্জে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। তিনি আরও বলেন, একইভাবে ২০২১ সালে হবিগঞ্জে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমানে ভাড়া বাড়িতে প্রায় ২১৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য এখনো জমি অধিগ্রহণ হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ সময় তিনি হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি বিন্দাবন কলেজের অবকাঠামোগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, শতবর্ষী এই কলেজে বর্তমানে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু এখনো অনেক ভবন টিনশেড হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি কলেজটিতে অন্তত দুটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
.jpg)