মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, চুনারুঘাট উপজেলার এক তরুণী প্রাথমিকভাবে নুরুল হকের সংস্থায় অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে অফিসেই প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের সময় নুরুল হক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টানা পাঁচ মাস তাকে জিম্মি করে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী জানান, তাকে অচেতন নাশক ওষুধ খাইয়ে নুরুল হকের বন্ধু ও প্রবাসীদের হাতেও তুলে দেওয়া হতো। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর ভিডিওগুলো বিদেশে পাঠানো হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তে জানা গেছে, শুধু একজন নয়, ওই সংস্থায় আরও একাধিক নারী একই কায়দায় ব্ল্যাকমেইল ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নুরুল হকের প্রতারণার কৌশল বহুমুখী। তিনি নিজেকে কখনো এনজিও কর্মকর্তা, কখনো মানবাধিকার নেতা, আবার কখনো গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় অসহায় মানুষের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠানো এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা হাতিয়ে নেওয়া তার প্রধান উপার্জনের উৎস ছিল।
সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে লন্ডনে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে নুরুল হক যৌন হয়রানি করছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরীকে ইমুর মাধ্যমে এক প্রবাসীর সঙ্গে ফোনে যৌন কর্মকাণ্ড করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিশোরী রাজি না হওয়ায় তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
