তিনি গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় এম সাইফুর রহমান টাউন হলে হবিগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে ৮৩টি মসজিদের ১৪ জন খতিব, ৮২ জন ইমাম ও ৮১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
হুইপ জি কে গউছ আরও বলেন, আমি বিএনপির হয়ে নির্বাচিত হয়েছি, কিন্তু আমি হবিগঞ্জের সকল মানুষের এমপি। আমি কাজের মানুষ, কাজের মধ্যেই থাকতে চাই। পৌরসভার মেয়র থাকা অবস্থায় নতুন নতুন আইডিয়া খুঁজে বের করতাম। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করে কাজ করেছি। এখনো সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। মানুষের মাঝেই থাকতে চাই এবং মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে আমার ঈমান কেনার সুযোগ নেই। আমি তিনবার পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি। আওয়ামী লীগ আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে, কিন্তু কোনো দুর্নীতির মামলা দিতে পারেনি। কারণ দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি। যত দিন আল্লাহ আমাকে হায়াত দেবেন, দুর্নীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক থাকবে না, ইনশাআল্লাহ।
এমপি জি কে গউছ বলেন, আমার ওপর অনেক নির্যাতন হয়েছে। এক জেল থেকে অন্য জেলে নেওয়া হয়েছে, খাবারের মধ্যে বালু দেওয়া হয়েছে, হ্যান্ডকাপ পরানো হয়েছে, পায়ে বেড়ি লাগানো হয়েছে এমন কিছু নেই যা আমার সঙ্গে করা হয়নি। কিন্তু ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আমি প্রমাণ করেছি, তুমি অধম হলে আমি উত্তম হব না কেন। সারা শহর শান্ত রেখেছি। যারা আমার বাসা ভেঙেছে, আমি তাদের বাসা পাহারা দিয়েছি। এই দেশ আমাদের, এই শহরেও আমাদের সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে।
হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মনিরুজ্জামান, খতিব মাওলানা কাজী এম এ জলিল, ইমাম মাওলানা মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান আজহারী এবং মুয়াজ্জিন মাওলানা মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে দুপুর ১২টায় হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে পৌঁছান। এ সময় পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন ও পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি শায়েস্তানগর টাউন জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। বাদ জুমা শায়েস্তানগর কবরস্থানে পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করেন। বেলা ২টায় নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
বিকাল সাড়ে ৩টায় এম সাইফুর রহমান টাউন হলে হবিগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। পরে তিনি হবিগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে টাউন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পুকুরের ওয়াকওয়ে, সৌন্দর্যবর্ধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১০টি ব্যাটারিচালিত টমটমের উদ্বোধন করেন।
বিকাল সাড়ে ৫টায় তিনি হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন এবং সন্ধ্যা ৬টায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। তারাবির নামাজের পর নিজ বাসভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন এবং মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি হবিগঞ্জের নিজ বাসা থেকে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং দুপুরে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে সফরসূচিতে উল্লেখ রয়েছে।
