মালদ্বীপে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বানিয়াচংয়ের প্রবাসী সদর আলী ॥ পরিবারে আহাজারি

মালদ্বীপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী মো. সদর আলী (৪৭) সহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে পাড়ি জমান। দেশে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান কন্যা মীম আক্তার (২০), এলিজা আক্তার (১৬) এবং ছেলে তানভীর আহমদ সৌরভ (১৪) রয়েছেন। হঠাৎ তার মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছালে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তারা খবর পান যে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে লেবার কোয়ার্টারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় সদর আলীসহ কয়েকজন বের হতে পারেননি এবং আগুনে দগ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। এদিকে মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে ধীগুরাহ দ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ (২য় পাতায় দেখুন)  থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে মোট পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত অন্যরা হলেন লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার তাজ উদ্দিন ইসলাম (৩০), ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার মো. রবিন মোল্লা (২৬), বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মো. নূরনবী সরকার (২৮) এবং নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার সফিকুল ইসলাম (৪৫)। আহত দুই বাংলাদেশি হলেন সুনামগঞ্জ জেলার জামাল উদ্দিন এবং কুমিল্লা জেলার সাদ্দাম হোসেন (২৮)। তারা বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাংলাদেশ হাইকমিশন নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। পাশাপাশি নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত তাদের পরিবারের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ গণমাধ্যমকে জানান, মালের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই আহত বাংলাদেশিকে তিনি পরিদর্শন করেছেন। চিকিৎসকদের মতে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং শ্বাসনালীতে গুরুতর বার্ন রয়েছে। একজনকে ইতোমধ্যে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং অপরজনকেও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবার ও চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং হাইকমিশনের দুইজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল দ্বীপে অবস্থান করছেন। হাইকমিশনের কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মরদেহ দেশে পাঠানো ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও আলোচনা চলছে। জানা যায়, শুক্রবার ভোরে সেহরি রান্না করার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে লেবার কোয়ার্টারে থাকা ৩৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে আটজন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। বাকি দুইজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজধানী মালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।


শেয়ার করুন