হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে বহিরাগত দালালদের উপৎপাত আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২২ জন দালাল প্রতিনিয়ত হাসপাতালে অবস্থান করে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, জেলার প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থল হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল। কিন্তু চিকিৎসা নিতে এসে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অনেক সাধারণ রোগী দালালদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন। দালালদের সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে তাদের মাধ্যমে না গেলে অনেক সময় বাইরে থেকে ওষুধপত্র কেনাও সম্ভব হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দালালদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। প্রতিদিনই বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেক রোগীকে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের ডোম মিজান জানান, দালালরা রোগীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এসব ক্লিনিকের সঙ্গে তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার সিদ্ধান্ত নিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে দালালি কার্যক্রম চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অবশেষে দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
খবর বিভাগঃ
হবিগঞ্জ
